উত্তরায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে সরাল পুলিশ
বেতন বাড়ানোর দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় পোশাকশ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে : নয়া দিগন্ত।

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর, রাজলক্ষ্মী ও বিএনএস সেন্টার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় পৌনে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে বিােভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। দফায় দফায় বুঝিয়েও সড়ক থেকে না সরায় বেলা পৌনে ১২টার দিকে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে এবং ধাওয়া দিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ সময় ব্যস্ততম এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, যার ফলে অফিসগামী মানুষ, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ দিকে শ্রমিকদের ধর্মঘট ও কর্মস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে উত্তরার পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেশ কয়েকটি কারখানার পোশাকশ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর ও রাজলক্ষ্মীসংলগ্ন সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আজমপুর ও বিএনএস সেন্টার এলাকায় ছয় থেকে আটটি কারখানার শ্রমিকরা জড়ো হয়ে পুরো সড়ক অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ দফায় দফায় চেষ্টা চালায়। তবে শ্রমিকরা সড়ক ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে বেলা পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে, লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিপে করে বিােভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর দুপুর পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টার মধ্যে সড়কে আবার যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে বিএনএস সেন্টার এবং খিলতে থেকে আজমপুর ও বিমানবন্দর এলাকা পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিস টাইমে ব্যস্ত মহাসড়ক বন্ধ থাকায় আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও গাড়ির দীর্ঘ সারি ছড়িয়ে পড়ে। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গণপরিবহনে আটকে থেকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে উপায়হীন হয়ে অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা যায়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছেÑবকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ এবং দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা। আন্দোলনকারীরা ােভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, লাগামহীন বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো ও জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা জানান, বকেয়া পরিশোধ ও নির্দিষ্ট দাবিদাওয়া নিয়ে বারবার কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। শ্রমিকদের প থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। 
এ দিকে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির প্রোপটে উত্তরার পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপ। বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑভার্সেটাইল ফ্যাশনস (প্রা.) লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড ও ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, পোশাকশ্রমিকরা দীর্ঘ সময় সড়ক আটকে রাখায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বারবার অনুরোধের পরও রাস্তা থেকে সরে না যাওয়ায় ধাওয়া দিয়ে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। টানা সড়ক অবরোধের কারণে প্রতিদিন জনসাধারণের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা নিরসনে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে অবহিত করা হয়েছে।
একই দাবিতে টানা তিন দিন ধরে এই এলাকায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা। এর আগে গত সোমবার উত্তরার আজমপুরে দণিখানের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা এবং বুধবারও আজমপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন।