
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করে বলছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার পরিবহনের বিষয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে কৃষি উৎপাদন ‘উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস’ পেতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনে। জাতিসঙ্ঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার পরিবহনের পরিকল্পনায় দ্রুত একমত না হয়, তবে এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাসঙ্কট দেখা দিতে পারে।
জাতিসঙ্ঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা বুধবার বলেন, চাষাবাদের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় উভয় দেশের এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়াটা ‘অত্যন্ত জরুরি’। এই পরিকল্পনায় ওমানে জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে, যা জাহাজ নিবন্ধনে সহায়তা করবে এবং এই জলপথে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত সারের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়ে থাকে।
ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে মোরেইরা দা সিলভা বলেন, ‘আমরা যদি চাষাবাদের এই মৌসুমটি হাতছাড়া করি, তবে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং পণ্যের মূল্যের ওপর এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
কৃষকরা নির্দিষ্ট সময় মেনে চাষাবাদ করেন; তাই সামান্য বিলম্বও ফসলের ফলনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সার পরিবহনের পরিমাণ ‘নগণ্য’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইরান এই প্রণালীতে বিভিন্ন জাহাজকে ল্যবস্তু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই জলপথ ও এর আশপাশের এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে ইউরিয়া (বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার) এবং সালফারের (সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান) সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের আগে, বিশ্বব্যাপী ইউরিয়া চালানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক এই প্রণালী দিয়েই যেত।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর তথ্য অনুযায়ী, সঙ্কট চলাকালীন কিছু জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারলেও, মোট পরিবাহিত পণ্যের মধ্যে সারের পরিমাণ ছিল ‘খুবই নগণ্য’।
মোরেইরা দা সিলভা জানান, মার্চ মাসে প্রণীত জাতিসঙ্ঘের এই সার পরিবহন ব্যবস্থাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই কার্যকর করা সম্ভব।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপসাগরীয় বন্দরগুলোতে স্থানীয় কর্তৃপরে পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘের পর্যবেকরাও উপস্থিত থাকবেন, যারা জাহাজে পণ্য ওঠানোর বিষয়টি যাচাই করবেন। সিলভা জানান, যাত্রাপথে জাহাজগুলোর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হবে এবং কোনো জাহাজ বা তাতে থাকা পণ্য নিয়ে কোনো দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করলে অতিরিক্ত পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেন এখনো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকলে যেসব দেশে সারের তীব্র সঙ্কট রয়েছে, সেখানে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
গত মে মাসে জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করে বলেছিল যে, সারের ঘাটতির ফলে ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্যান্য সঙ্কটের মুখে থাকা দেশগুলো এর ফলে সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








