
শেফাক মাহমুদ বুটেক্স
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৪৯ জন কর্মী তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া ও সরকারি নীতিগত পরিবর্তনের কারণে বেতন পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেতন না পেয়ে ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন অনেক কর্মী। আসন্ন পূজার আগে বকেয়া বেতন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেড ও আল মোমেন আউটসোর্সিং লিমিটেড নামের দু’টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে এসব কর্মী কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে নিরাপত্তারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে তারা দাবি করেন। তবে বেতন পরিশোধের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত পাননি কর্মীরা।
সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি পৃথক চুক্তির অধীনে মোট ১৪ জন কর্মী কাজ করছিলেন। এর মধ্যে একটি চুক্তির মেয়াদ গত বছর জুনে শেষ হয়, যার অধীনে পাঁচজন কর্মী ছিলেন। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরের বেতন নিজস্ব অর্থায়নে পরিশোধ করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিল এখনো পরিশোধ করেনি। বাকি ৯ জন কর্মীর েেত্র চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়।
অন্য দিকে সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তির অধীনে মোট ৩৫ জন কর্মী কাজ করছিলেন যেটার মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়। বেতন বন্ধ থাকায় আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন কর্মীরা। জিএমএজি ওসমানী হলের গেটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারী মো: শফিউল বাশার বলেন, ‘তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না, এখন চতুর্থ মাস চলছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ইউজিসির চিঠি এলেই বেতন দেয়া হবে; কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলব, বুঝতে পারছি না। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাসায়ও সবকিছু খুলে বলতে পারি না। কিভাবে চলছি, সেই কষ্ট কাউকে বোঝানোও কঠিন। সবমিলিয়ে খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি।’
চুক্তি নবায়ন না করার বিষয়ে সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের প থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তের কথা প্রতিষ্ঠানটিকে আগেই জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তাদের জানিয়েছিল, আগের পদ্ধতিতে চুক্তি নবায়ন না করে সরাসরি দরপত্রের মাধ্যমে সেবা নেয়া হতে পারে। একারণে পরবর্তী চুক্তি নবায়নের জন্য তারা আর আবেদন করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতরের উপ-পরিচালক মো: কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘কর্মীদের বেতন পরিশোধে সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো তহবিল থেকে অর্থ দেয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূজার ছুটির আগে বা ছুটির মধ্যে অন্তত একটি বিল পরিশোধের চেষ্টা চলছে, যাতে কর্মীরা পূজা ভালোভাবে কাটাতে পারেন। তবে পরবর্তী বিলগুলো কবে পরিশোধ করা যাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত জানাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো: মামুন কবির বলেন, ‘বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের বেতন তৃতীয় পরে পরিবর্তে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেয়ার জন্য প্রশাসনের প থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে শিা মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে কর্মীদের বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে সাময়িকভাবে অর্থ দিয়ে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে অধ্যাপক শেখ মো: মামুন কবির বলেন, ‘নির্দিষ্ট খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ নেই। এতে নিরীার সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








