খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা অনুমোদন, পিটিআইয়ের ক্ষোভ
পাকিস্তানে পেশোয়ারের বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে পড়া শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে আছেন এক উদ্ধারকর্মী : ইন্টারনেট।

ডন ও জিয়ো নিউজ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা পার্লামেন্ট। গত বুধবার জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের পৃথক অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। প্রাদেশিক প্রশাসন উগ্রবাদ নিরসনে দায়িত্ব অবহেলার পরিচয় দিয়েছেÑ এমন অভিযোগ তুলে গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চালিত সরকারকে সরিয়ে প্রশাসনিক কড়াকড়ি কার্যকর করে শাহবাজ শরিফের কেন্দ্রীয় প্রশাসন। পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তি সহ বেশ কিছু দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সাবেক শাসকদলটির মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। জাতীয় পরিষদের ফোরে দাঁড়িয়ে পিটিআই চেয়ারম্যান গহর আলী খান কেন্দ্রের এই পদপেকে সরাসরি অন্যায় অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী কিংবা বোনেরা ঠিক কী ধরনের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন যে তাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে? কারারুদ্ধ নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই যখন রাজধানী অভিমুখী কর্মসূচির ঘোষণা দেয়, ঠিক সেই প্রোপটে প্রশাসনিকভাবে এই পদপে গ্রহণ করে শাহবাজ প্রশাসন। উভয় কে জরুরি অবস্থার পে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন সংসদবিষয়ক মন্ত্রী তারেক ফজল চৌধুরী।
সিনেটের পরিস্থিতি
বিরোধী আইনপ্রণেতাদের জোরালো আপত্তি ও হট্টগোলের মধ্যেই সিনেটে প্রস্তাব অনুমোদন পায়। সিদ্ধান্ত পাসের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন ক ত্যাগ করেন পিটিআই সমর্থিত সিনেটররা। প্রস্তাব গ্রহণের আগে সরকারি দল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তুমুল বাগি¦তণ্ডা হয়। এ সময় আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার সরকারের এই পদপে ও প্রক্রিয়াগত প্রক্রিয়ার পে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সিনেট সদস্যদের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে সিনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি বিরক্তি প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে এটি কোনো শিাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিক নয়, তাই হইচই বন্ধ রাখা উচিত। আলোচনায় অংশ নিয়ে পিটিআই সিনেটর হুমায়ুন মোহমান্দ দাবি করেন, স্বতন্ত্র সিনেটর ফয়সাল ওয়াদা আগেই এই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তার মতে, উগ্রবাদ নির্মূলের কথা বলা হলেও আসল ল্য পিটিআইকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা।
জাতীয় পরিষদের কার্যক্রম
জাতীয় পরিষদে বিষয়টি প্রাধান্য দিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব মুলতবি রাখা হয়। আইনমন্ত্রী আলোচনার সূচনা করার পর ভোটাভুটিতে প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন লাভ করে আইনটি। জাতীয় পরিষদের সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বার্তায় জানানো হয়, সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে ১১ অক্টোবর  প্রেসিডেন্টের জারি করা বিশেষ প্রশাসনিক জরুরি অবস্থার নথিতে অনুমোদন দিয়েছে পরিষদ। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের জারি করা যেকোনো প্রশাসনিক জরুরি আদেশ কার্যকরের ১০ দিনের ভেতর পার্লামেন্টের উভয়কে অনুমোদিত হতে হয়। জাতীয় পরিষদের বৈঠকে বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা কোনো হইচই না করে অপোকৃত শান্ত মেজাজে পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সঙ্কটময় মুহূর্তের এই বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন। সরকারি মন্ত্রীরা প্রাদেশিক সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে কেন্দ্রের পদেেপর যৌক্তিকতা প্রমাণে বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, পিটিআই চালিত স্থানীয় প্রশাসন উগ্রবাদ মোকাবেলায় আন্তরিক ছিল না। অন্য দিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি বলেন, পিটিআই তাদের নিজস্ব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। চলমান পরিস্থিতিকে তিনি দলটির জন্য ‘রাজনৈতিক আত্মঘাতী পদপে’ বলে অভিহিত করেন।

Advertisement