
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রাক্তন ভিসি পুনর্বহালের দাবিতে সৃষ্ট নজিরবিহীন অচলাবস্থা ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে টানা ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) যৌথ হস্তক্ষেপে উদ্ধার পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে চুয়েট ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চুয়েটের অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাউজানস্থ চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মাসুদ আলম।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক ও ভিসি আমাদের কাছে জরুরি নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। চিকিৎসার স্বার্থে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা এসেছি এবং দ্রুতই তাকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
চুয়েটে ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুরু হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক ভিসিকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চুয়েটে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। গত সোমবার সকালে ভিসি শেখ শরীফুল আলম প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা তার পদত্যাগের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ভিসি পদত্যাগ করলে তাকে ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভিসি নিয়োগ নিয়ে বিরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং ভিসি নিয়োগ নিয়ে চলমান বিরোধের সমাধান জরুরি হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থেকে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম শারীরিক অসুস্থতা বোধ করলে শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে উদ্ধার হয়ে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








