রাশেদ খান, আমার দেশ পত্রিকা, মাহমুদুর রহমান, বিএজে, সংবাদপত্র ছেঁড়ার ঘটনা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মুক্ত সাংবাদিকতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)। সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান কর্তৃক ফেসবুক লাইভে প্রকাশ্যে জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা এবং পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)।

Advertisement

রোববার (১ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক আহমদ মতিউর রহমান এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বিএজে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘প্রকাশ্যে ভিডিওতে একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা কেবল একটি পত্রিকার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন নয়, বরং তা মুক্ত সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে ভুল থাকলে কিংবা কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানানোর, প্রেস কাউন্সিলে যাওয়ার অথবা আইনি প্রতিকার চাওয়ার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু সেসব পদক্ষেপ না নিয়ে আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে হুমকি ছড়ানো কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। মতের অমিলের জবাব দিতে হবে যুক্তি ও সত্য দিয়ে, সংবাদপত্র ছিঁড়ে নয়।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘দায়িত্বশীল পদে থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার মতো উস্কানিমূলক কাজ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।’

বিএজে নেতৃবৃন্দ দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা যায়, কিন্তু সত্য প্রকাশের আকাঙ্ক্ষাকে কোনোভাবেই ছিঁড়ে ফেলা বা স্তব্ধ করা যায় না। গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও সমালোচনাকে মোকাবিলা করতে হয় যুক্তি ও সত্য দিয়ে, অবজ্ঞা বা বলপ্রয়োগ দিয়ে নয়।’

বিবৃতিতে বিএজে নেতারা অবিলম্বে এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। একইসাথে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।