
শফিকুল আলম ভূঁইয়া রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
শরতের শুভ্র কাশফুলে সেজেছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা। জলসিঁড়ির বালুর মাঠ, নগরপাড়া ও বানিয়াদীসহ নদীর চরাঞ্চলে ফুটে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। তবে কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে না, এর খড়, ছন ও ঝাঁটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।
কাশবন দেখতে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেলে সাদা কাশফুলের দোল নদীর পাড়ে মিলিয়ে তৈরি করছে এক মনোরম পরিবেশ। তরুণ-তরুণীদের আড্ডা, পরিবারের সদস্যদের ঘোরাঘুরি ও ছবি তোলায় মুখর হয়ে উঠছে কেউ কেউ। কাশবন থেকে সংগ্রহ করা খড়, ছন ও ঝাঁটি পানের বরজ নির্মাণ, ঘরের বেড়া তৈরি এবং গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। রান্নার জ্বালানি হিসেবেও কাশবনের খড়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। কোনো ধরনের পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা কাশবন তাই স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। শরতের শেষ দিকে এসে কাশফুলের উপস্থিতি বাঙালির ঋতুবৈচিত্র্যের পাশাপাশি হিন্দু জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপুজার আগমনী আবহ তৈরি করে।
গত শুক্রবার বিকেলে সন্তানকে নিয়ে জলসিঁড়ির বালুর মাঠে ঘুরতে আসেন প্রবাসী আখি আক্তার। তিনি বলেন, যান্ত্রিক জীবনে মানুষ আনন্দ-বিনোদনের সময় কম পায়। মন প্রফুল্ল করতে এবং পরিবারের সাথে সময় কাটাতে তাই এখানে আসা।
আরেক দর্শনার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বিয়ের পর গত ১০ বছর ধরে প্রায় প্রতি শরতেই পরিবার নিয়ে কাশবনে ঘুরতে আসেন তিনি। তবে ছোটবেলায় ভাদ্র মাসের শুরুতেই চরজুড়ে কাশফুল ফুটতে দেখলেও এখন আশ্বিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আবাসন গড়ে ওঠায় একসময় কাশবন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন মেহেদী হাসান।
চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাফিসা ইসলাম বলে, বইয়ে শরৎকাল ও কাশফুল সম্পর্কে পড়েছি। বাস্তবে কাশফুল দেখতে বাবা-মায়ের সাথে এখানে এসেছি। বেশ ভালো লাগছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








