ট্রাম্পের মানহানির মামলা,  স্থায়ীভাবে খারিজ, আপিল, প্রেসিডেন্ট,
ফেড়ারেল আদালত। আনদোলু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা মানহানির ২০০০ কোটি ডলারের মামলা স্থায়ীভাবে খারিজ করে দিয়েছে দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। জেফরি এপস্টেইনকে লেখা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ জন্মদিনের চিঠিতে ট্রাম্পের নাম থাকার খবর প্রকাশ করায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে তিনি এ মামলা করেছিলেন। আদালতের মতে, সংবাদপত্রটি জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে, এমন অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি ট্রাম্প।

Advertisement

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু রোববার (১ নভেম্বর) এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন জেলা বিচারক ড্যারিন পি. গেইলস রায়ে বলেন, সংবাদপত্রটি খবর প্রকাশের সময় বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে কাজ করেছে, এমন অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি ট্রাম্প। সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিটি লেখার কথা ট্রাম্প অস্বীকার করার পরও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরটি প্রকাশ করা উচিত হয়নি বলে যুক্তি দিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা। কিন্তু বিচারক এ যুক্তি নাকচ করে বলেন, এমন নিয়ম চালু হলে কোনো জনপরিচিত ব্যক্তি বা তাঁর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ অস্বীকার করা মাত্রই সাংবাদিকেরা তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক বা ভিন্নমতপূর্ণ খবর প্রকাশের সুযোগ হারাবেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পরিপন্থী হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সরকারের কাছে দাবি জানানোর অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে সরকার সহজে সংবাদ প্রকাশ বা সরকারের সমালোচনা বন্ধ করতে পারে না।

এর আগে গত এপ্রিলে মামলাটি খারিজ করেছিলেন বিচারক গেইলস। তবে তখন ট্রাম্পকে সংশোধিত অভিযোগ জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এবার তিনি বলেন, নতুন অভিযোগপত্রেও আইনি ত্রুটিগুলো দূর করতে পারেননি ট্রাম্প। ফলে মামলাটি এমনভাবে খারিজ করা হয়েছে, যাতে একই আদালতে নতুন করে তা দায়ের করার সুযোগ আর থাকছে না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মালিক প্রতিষ্ঠান ডাউ জোন্সের এক মুখপাত্র আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এর মালিক প্রতিষ্ঠানগুলো, রুপার্ট মারডক এবং পত্রিকাটির দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন ট্রাম্প। প্রথমে তিনি ২০০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে সংশোধিত মামলায় অন্তত ১০০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। ট্রাম্প বরাবরই চিঠিটি লেখার কথা অস্বীকার করে আসছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, চিঠি লেখার বিষয়টি মিথ্যা তথ্য হিসেবে জেনেশুনেই খবরটি প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি।