ভালুকায় ৬ গ্রামের মানুষের ৮ বছর ধরে দুর্ভোগ
কাতলামারী বাজার থেকে চামিয়াদী বাজার পর্যন্ত খুঁড়ে রাখা সড়ক : নয়া দিগন্ত ।

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের ভালুকায় পাকা করার নামে সড়ক খুঁড়ে ফেলে রেখে উধাও হয়ে গেছেন ঠিকাদার। দীর্ঘ আট বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের মানুষ। ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা এই সড়কে যানবাহন চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতে এক দিকে বেড়েছে পরিবহন খরচ, অন্য দিকে উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারজাত করতে না পেরে লোকসান গুনছেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। জটিল রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, অসমাপ্ত কাজের চুক্তি বাতিল করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) নতুন করে দরপত্র আহ্বান করলেও সড়কটির নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আংগারগাড়া বাজার থেকে কাতলামারী বাজার হয়ে উথুরা ইউনিয়নের চামিয়াদী বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা কাটছেই না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় আট বছর আগে সড়কটি পাকা করার জন্য খুঁড়ে রাখা হয়। ফলে ভোগান্তি আগের চেয়ে বহু গুণ বেড়েছে। আগে বর্ষাকালে কিছুটা কষ্ট হলেও যাতায়াত করা যেত। এখন শুষ্ক মৌসুমেও চলাচল করা যায় না। যে পথে ১০ টাকা ভাড়া ছিল, সেখানে এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা দিলেও উল্টে যাওয়ার ভয়ে চালকরা মালামাল পরিবহন করতে চান না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাতলামারী, চামিয়াদী, মরচি, পাঁচগাঁও, তালুটিয়া ও বনগাঁওসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেরও একমাত্র ভরসা এটি। সড়কটির দুই পাশে দুই শতাধিক পোলট্রি ও গবাদিপশুর খামার রয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারে নিতে এ পথ ব্যবহার করেন।
ফলে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। পরিবহন খরচ বাড়ায় পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। গুনতে হচ্ছে লোকসান। এ ছাড়া ডাকাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে এক প্রান্তের বাসিন্দাদের প্রায় ছয় কিলোমিটারের বদলে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ রিজিওনাল রুরাল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সড়কটির উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। একই প্যাকেজে আরো দু’টি সড়কের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘ডলি কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছয় কোটি ৯৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৮ টাকায় কাজটি পায়। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২০ সালের ১৬ মার্চের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল; কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সামান্য কাজ করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান।
ভালুকা উপজেলা প্রকৌশলী শামছুল হক রাকিব বলেন, বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও কাজ শেষ না করায় ডলি কনস্ট্রাকশনের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। কাজ ফেলে রেখে দীর্ঘ আট বছর মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। সড়কটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।

Advertisement