চুয়েটে কর্মবিরতিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা

 চট্টগ্রাম ব্যুরো

Advertisement

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েক নেতাকে সাথে নিয়ে তালা ভেঙে নিজের অফিসে ঢুকেছেন। কিন্তু তাকে প্রত্যাখ্যান করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় নতুন ভিসি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং বেলা সাড়ে ৩টায় চুয়েট কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ জরুরি সভা শেষে তাকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা আসে। অন্য দিকে শিক্ষার্থীরা নতুন ভিসিকে তালাবদ্ধ করে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। 
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘নতুন ভিসি বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করায় অনাকাক্সিক্ষত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তার এই প্রবেশ ও উপস্থিতিকে প্রত্যাখ্যান করছি। এই ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার নবনিযুক্ত ভিসিকেই নিতে হবে।’
তিনি আরো জানান, পূর্বে উপস্থাপিত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করবেন না। সর্বাত্মক অসহযোগের পাশাপাশি চুয়েট জুড়ে পূর্ণ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে সোমবার সকালে নিয়োগের ১৮ দিন পর প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন ভিসি ড. শেখ শরীফুল আলম। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে ভবন ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেয় এবং ভবন না ছাড়লে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ কেটে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভিসিকে ভেতরে রেখেই ভবনে তালা  ঝুলিয়ে দেয় এবং ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এ দিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. শেখ শরীফুল আলম জানান, চলমান অচলাবস্থা নিরসনে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসতে চান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যুক্তিযুক্ত দাবিগুলো সমাধানের লক্ষ্যে ছাত্রকল্যাণ দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত সংলাপে বসবেন।
তিনি আরো বলেন, সবার লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন হলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। প্রায় তিন সপ্তাহের শাটডাউনে ব্যাহত হওয়া ক্লাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে টার্ম ব্রেক কমানো এবং দ্রুত ফল প্রকাশের বিকল্প নিয়ে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা হয়েছে।
শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি তো ক্লাস পড়াতেই চাই এবং অনেক শিক্ষকও ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী। শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত ক্লাসে ফিরতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন দফতর ও বিভাগের প্রধানদের সাথে আলোচনা করে শিগগিরই ক্লাস শুরুর সূচি জানিয়ে দেবো।’
ক্যাম্পাসে যোগদানে বিলম্বের বিষয়ে ভিসি জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর আন্দোলন শুরুর পর পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন দফতর ও অংশীজনদের সাথে পরামর্শ করেছেন। আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার পরই ক্যাম্পাসে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সায়েম ভালো শিক্ষক ও গবেষক। আমরা একে অন্যের প্রতিপক্ষ নই; বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তার সহযোগিতাও প্রয়োজন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ভিসি পদ থেকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন ভিসি নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। এই কর্মসূচির কারণে ২১ দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে।