ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য নেবে সরকার
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন : নয়া দিগন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চার কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ জন্য দেশজুড়ে একযোগে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গতকাল তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে গত জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট এক লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরো বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে থ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক চার কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করে এ হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কার্যক্রমটি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার আওতায় আনা হবে।