লিভারপুলের জালে ম্যান সিটির ৩ গোল
ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের গোল উল্লাস : ইন্টারনেট।

 ক্রীড়া ডেস্ক
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ক্লাবটি। রয়েছে শাস্তির শঙ্কা। এই পরিস্থিতির মধ্যেও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েনি ক্লাবের খেলোয়াড়রা। তাই মাঠে নেমেই নিজেদের শক্তির জানান দিলো ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়রা। পরশু অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করেছে তারা। অবশ্য রায়ান গ্রাভেনবার্খ লাল কার্ড দেখায় ম্যাচের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া লিভারপুল। এতে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হারের ততো স্বাদ নিতে হয়েছে অল রেডদের।
তবে মাঠের এই সাফল্যের আড়ালেও সিটির সামনে ঝুলছে বড় শাস্তির শঙ্কা-যার মধ্যে থাকতে পারে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার, অবনমন কিংবা রেকর্ড পয়েন্ট কেটে নেয়ার মতো শাস্তি। এই জয়ে টেবিলের শীর্ষে ৩ পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রেখেছে এনজো মারেস্কার দল। 
ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই সিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন লিভারপুল সমর্থকেরা। আর্থিক অনিয়মে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে ‘প্রতারক’ বলে দুয়ো দিতে থাকেন তারা।
গ্যালারিতে দেখা যায়, ‘এক প্রজন্মের সমর্থকদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে’ এমন বার্তাসংবলিত ব্যানারও। জবাবে সিটির সমর্থকেরা ক্লাবের মালিকপক্ষের প্রতি আস্থা জানিয়ে ‘খালদুনের ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে’ লেখা পতাকা প্রদর্শন করেন। এমন পরিস্থিতিতে সিটির কয়েকজন সমর্থকের হাতে আবারো দেখা যায় কৃত্রিম কলা। পুরনো সেই প্রতীক যেন এবারো মাঠের বাইরের বিতর্কের মধ্যে নিজেদের ক্লাবকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিদ্রƒপের জবাবে রসিকতার আশ্রয় নেয়ার একটি উপায় হয়ে উঠেছে। স্টেডিয়ামের বাইরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।
১৯৮০-এর দশকে ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের মধ্যে কলা নিয়ে গ্যালারিতে হাজির হওয়ার চলন শুরু হয়। তখন ক্লাবটি ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তর থেকে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গিয়েছিল। মাঠের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মধ্যেও সমর্থকেরা রসিকতার মাধ্যমে নিজেদের আনন্দ খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করতেন। সে সাথে প্রতিপক্ষকে জবাব দেয়ারও মাধ্যম- যা হলো পরশুর ম্যাচেও।
তবে গ্যালারির উত্তাপ মাঠের খেলায় শুরুতে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। প্রতিকূল পরিবেশ সামাল দিতে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধীরগতিতে খেলতে থাকে ম্যানসিটি। অন্য দিকে আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি লিভারপুলও। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
বিরতির পর অবশ্য ম্যাচে গতি বাড়ে। লিভারপুলের ভিক্টর মুনোজ ও গ্রাভেনবার্খের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। অন্য প্রান্তে, গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে পাঠিয়ে হতাশায় মাথায় হাত দেন আর্লিং হালান্ড। অবশেষে ৬৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় সিটি। দুর্দান্ত এক শটে দলকে এগিয়ে দেন হালান্ড। ৩ মিনিট পর বদলি হিসেবে নামা জেরেমি ডোকু ডি-বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৮ মিনিটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সিটির তৃতীয় গোলটি করেন রায়ান শেরকি। তার দুর্দান্ত দক্ষতায় লিভারপুলের রক্ষণ ভেঙে পড়ে, নিশ্চিত হয় সিটির বড় জয়।
তার আগেই অবশ্য (৬২ মিনিটে) ডোকুকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন গ্রাভেনবার্খ। একজন কম নিয়ে খেলার চাপে লিভারপুল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

Advertisement