লিটনের মাইলফলকের টেস্ট
সেঞ্চুরি করার পর ব্যাট উঁচিয়ে অভিনন্দনের জবাব দিচ্ছেন লিটন দাস : ক্রিকইনফো।

 

Advertisement

ক্রীড়া প্রতিবেদক

  • সপ্তম সেঞ্চুরি        
  • ৯ হাজার রান        
  • ৭ ডিসমিসাল



তিনবার সুযোগ পেয়েছেন, প্রতিবারই ফিরেছেন আরো দৃঢ় হয়ে। আফগান বোলারদের হাতছাড়া করা সুযোগের মূল্য দিয়েছেন ব্যাট হাতে। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি, সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক। এক ম্যাচে সাত ডিসমিসাল করে ২২ বছর পর খালেদ মাসুদ পাইলটের রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আবুধাবিতে লিটন কুমার দাসের দিনটি হয়ে থাকল ব্যক্তিগত অর্জন আর দলীয় সাফল্যের মিশেলে।
ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট-শর্ট থার্ড ম্যানের মাঝখান দিয়ে চার মারলেন লিটন দাস। সীমানার দড়ি স্পর্শ করতেই ব্যাট-হেলমেট উঁচিয়ে ধরে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিলেন। হেলমেটে চুমু দিলেন। তিনবারের দেখায় টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবারই প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন। মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলীখিলের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। আউটের পর তাকে পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ডাগআউট থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংস ঘোষণা করলেন। আফগানিস্তানকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েই থামল  বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে গতকাল চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের খেলা শুরুর সাত ওভারের মধ্যে দুইবার জীবন পান লিটন। যার মধ্যে ৭৫তম ওভারের শেষ বলে আফগান লেগস্পিনার কায়েস আহমেদকে কাট করতে যান লিটন। এজ হওয়া বল সিøপে যখন মিস করেন শাহিদুল্লাহ কামাল, তখন লিটনের রান ১৪।
চার ওভার পর সেই কায়েসের বলে ফের জীবন পান লিটন। ৭৯তম ওভারের তৃতীয় বলে লিটন সোজা ড্রাইভ করেন। ডান দিকে ঝুঁকেও কট অ্যান্ড বোল্ডের সুযোগ হাতছাড়া করেন আফগান লেগস্পিনার। বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটারের রান তখন ২৬। দুই দফা জীবন পেয়ে- সেটা দু’হাত ভরে লুফে নিয়েছেন। বাংলাদেশের পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রান করেছেন অভিজ্ঞ এই উইকেটরক্ষক। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দেশের ক্রিকেটের চার অভিজ্ঞ তারকার পর এবার সেই বিশেষ তালিকায় যুক্ত হলো লিটনের নাম।
বাজে বল পেলে লিটন সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন। কখনো কখনো আফগান ফিল্ডাররা ডাইভ দিয়েও বল থামাতে পারেননি। ভাগ্যের ছোঁয়া পেয়ে কখনো সেটা লিটনের স্টাম্পের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। শুধু লিটনই নয়, মিরাজের বিপক্ষেও আউটের আবেদন করেছিল আফগানিস্তান। ৯৫তম ওভারের পঞ্চম বলে জিয়াউর রহমানকে সøগ সুইপ করতে যান মিরাজ। এজ হওয়া বল সিøপে থাকা ফিল্ডার ডাইভ দিয়ে ধরেছেন। আম্পায়ার আউট না দেয়ায় আফগানিস্তান দলে দেখা গেছে হতাশা। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল মিরাজের গ্লাভসের ওপরের অংশে লেগেছে।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় ৯৮ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩৭ রান করে বাংলাদেশ। লিটনের রান ছিল তখন ৮১। সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে দরকার ছিল ১৯ রান। ১০৫তম ওভারের পঞ্চম বলে কায়েস আহমেদকে কাট করে চার মেরেই তিন অঙ্ক ছুঁলেন লিটন। ১১৫ বলে পেলেন সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পর আর কোনো রানই যোগ করতে পারেননি লিটন। ১০৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সেলিমের শিকারে পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটার। আউট হওয়ার পর লিটনের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল নিজের শট নির্বাচন নিয়ে কতটা হতাশ তিনি। তখন ডাগআউট থেকে ভেসে আসে মুহুর্মুহু করতালি। ১১৭ বলে ১৪ চারে ১০২ রান করে আউট হন লিটন।
লিটনের বিদায়ে ভেঙে যায় সপ্তম উইকেটে তার সাথে মিরাজের ২০১ বলে ১৪৯ রানের জুটি। বাংলাদেশ ১০৫.২ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে।
এবার উইকেটকিপিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন এই তারকা। ২২ বছর আগে রেকর্ডটি গড়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে আবুধাবি টেস্টে খেলতে নেমেছিলেন লিটন। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৫৩ রান করার পাশাপাশি চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং করেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের প্রথম দুই ব্যাটারের ক্যাচও নিয়েছেন লিটন। তাতে ম্যাচে তার ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডও এটি। ২০০৪ সালে হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাতটি ডিসমিসাল করেছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট। ২২ বছর পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন লিটন। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো আট উইকেট হাতে থাকায় পাইলটকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তার সামনে।
তবে বিশ্বরেকর্ড থেকে এখনো বেশ দূরে লিটন। এক টেস্টে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড রয়েছে তিন উইকেটকিপারের। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ঋষভ পন্ত এই কীর্তি গড়েছিলেন।