
বিবিসি
মস্কো থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ক্রেমলিনের ওপর বৈশ্বিক চাপ বজায় রাখার মুহূর্তে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘পুরস্কার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কিয়েভ ও পশ্চিমা মিত্রদের মতে, মস্কোর কাছ থেকে জ্বালানি ক্রয়ের মাধ্যমে কার্যত পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকেই আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, সঙ্ঘাত বন্ধ করতে রাশিয়ার ওপর বৈশ্বিক চাপ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও পদক্ষেপটি ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছে।
সাতজন মার্কিন সিনেটর এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছেন, রাশিয়ার সাথে এই সমঝোতা ২০২২ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স, লিসা মারকাউস্কি, থম টিলিস ও জন কার্টিস এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন, রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও রন ওয়াইডেন অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বিশ্ববাজারে ও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে পুতিন তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টন ডিজেল পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। পরবর্তীতে নভেম্বরে আরো পাঁচ লাখ টন, এরপর ১০ লাখ টন এবং ধাপে ধাপে প্রতি মাসে তা ৩০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক দেশটির বার্তা সংস্থা তাসকে এই পরিসংখ্যানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সমঝোতার অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলো। তবে মার্কিন ব্যাংকে থাকা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর ভেতরেই এই আমদানি কার্যকর করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, স্থানীয় কৃষক, পশুপালক ও পরিবহন চালকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানোই তার প্রধান অগ্রাধিকার। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা টমাস ম্যাসিও সব ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্ঘাত শুরুর পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন এএএ-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেল ৬ দশমিক ২৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছয় দশমিক ৫৩ ডলারে উঠেছিল। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই জ্বালানি সঙ্কট নিরসনে তৎপর হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক ডিজেলের মোট ব্যবহার প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল হওয়ায় রাশিয়ার প্রাথমিক তিন লাখ টন সরবরাহ দেশের মোট চাহিদার মাত্র অর্ধেক দিনের সমান।
এ দিকে ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘোষণাকে ইতিবাচক বললেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








