৩২৯ রানের লিড নিয়েও অস্বস্তি

 ক্রীড়া প্রতিবেদক
দিনের শুরুতে হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে বড় লিড। তবে শেষ বিকেলে পরপর তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের লিডসহ বাংলাদেশের এখন ৩২৯ রানে এগিয়ে। আজ চতুর্থ দিন খেলা শুরু করবেন লিটন দাস (৫*) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (০*)।
কাভার ড্রাইভ করার লক্ষ্যেই সামনের পা এগিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু আফগানিস্তানের লেগস্পিনার কায়েস আহমেদের ভেতরে ঢোকা বল শান্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভেঙে যায় স্টাম্প। যখন আউট হয়েছেন, তার চোখে-মুখে দেখা গেছে হতাশা। এমনকি ডাগআউটেও বাংলাদেশ অধিনায়কের হতাশার চেহারাই ফুটে উঠেছে। আর মাত্র ১৮ রান করলেই শান্ত পেয়ে যেতেন দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। হাতছোঁয়া দূরত্বে বাংলাদেশ অধিনায়ক যেমন সেঞ্চুরি ফেলে এসেছেন, মুশফিকুর রহীমও সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে হতাশ করেছেন। তিনি আউট হয়েছেন ৮১ রানে। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সেঞ্চুরি করতে না পারলেও ম্যাচের লাগাম বাংলাদেশের হাতেই। 
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর ১ ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টেনে দেয় বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ৬১ বলের মধ্যেই হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী আফগানিস্তানের শেষ ৬ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। অলক কাপালি, সোহাগ গাজীর পর তৃতীয় বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছেন হাসান। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পর হাসান টেস্টে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ১৭ টেস্টে ৫০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্রুততম উইকেটের ফিফটি করার রেকর্ডটা তারই। পরবর্তীতে সেলিম সাফিকে ফিরিয়ে এবাদত আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানেন। ২৯ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান গুটিয়ে যায় ২৪০ রানে। অধিনায়ক রহমত শাহ ২১৬ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হাসান ৫টি, এবাদত ৪টি এবং মিরাজ পেয়েছেন ১ উইকেট। 
১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করা ৩ টপ অর্ডারকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোর ১৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৫৩ রান। শান্তও কয়েক দফা আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েছেন। যেখানে ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ সেলিম শাফিকে পুল করতে যান ২ রানে থাকা শান্ত। উইকেটরক্ষক ইকরাম আলীখিল আবেদন করলে আম্পায়ার সাড়া দেননি। আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ রিভিউ নিলে দেখা যায়, বল শান্তর গ্লাভস বা ব্যাট কোনো কিছুই স্পর্শ করেনি। ব্যক্তিগত ৫ রানের সময় আরেকবার জীবন পান শান্ত। আহমাদজাইয়ের বলে শান্ত খোঁচা দিলে ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি উইকেটরক্ষক ইকরাম আলীখিল। স্লিপে থাকা ফিল্ডারও নাগাল পাননি। একবার তো আফগানিস্তানের আবেদনে আম্পায়ার শান্তকে আউট ঘোষণা করেন। ২৭তম ওভারের তৃতীয় বলে জিয়াউর রহমান আকবরের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হওয়ার পর শান্ত দ্রুত রিভিউ করেন। রিভিউতে দেখা গেছে, স্টাম্পে বল লাগেইনি। বাংলাদেশ অধিনায়কের রান তখন ১১।
শান্ত-মুশফিক এরপর সাবলীলভাবে খেলতে থাকেন। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েন ১৫৯ রানের জুটি। ১৫তম টেস্ট সেঞ্চুরি পেতে যখন ১৯ রান দরকার, তখন জিয়াউর রহমানকে স্কুপ করতে যান মুশফিক। ব্যাট-প্যাডে লেগে বল চলে যায় প্রথম স্লিপে শাহিদুল্লাহ কামালের হাতে। ১৪৮ বলে ৯ চারে মুশফিক করেন ৮২ রান। তার বিদায়ে মুহূর্তেই ৩ উইকেটে ২১২ রান থেকে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ৭২তম ওভারের পঞ্চম বলে হাসানকে এলবিডব্লিউ করেন জিয়া। রিভিউ নিয়েও হাসান বাঁচতে পারেননি। মিরাজ প্রথম বল খেলে ডট দিয়েছেন। দিন শেষে ৭২ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দল। হাতে আছে ৪ উইকেট, আর লিড ৩২৯ রান। আহমদজাই ও জিয়াউর রহমান আকবর দু’টি করে, সালিম সাফি ও কাইস আহমেদ ১টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ইনিংস : ৩৪৬ ও ৭২ ওভারে ২২৩/৬ (সাদমান ১৩, তানজিদ ৩১, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, লিটন ৫*, ইয়ামিন ২/৪২, সালিম ১/৩৯, জিয়াউর ২/৫৫, কাইস ১/৩৬)। 
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস : (আগের দিন ২১১/৪) ৮৯.১ ওভারে ২৪০ (রহমত ১০৫, ইকরাম ৩২, হাসান ৫/৫৫, এবাদত ৪/৫৬, মিরাজ ১/৪১)।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩২৯ রানে এগিয়ে।

Advertisement