
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আবুধাবিতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস যেন এক গল্প-শুরুর আত্মবিশ্বাস, মাঝপথে সম্ভাবনার হাতছানি আর শেষ দিকে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ছন্দপতন। প্রথম দিনের শেষ ভাগে যে বিপর্যয়ের শুরু, দ্বিতীয় দিনের সকালে তারই পরিণতি দেখা গেল। ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে আজ দিন শুরু করে বাংলাদেশ যোগ করতে পারল মাত্র ২৯ রান। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে একসময় ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে সাড়ে ৪০০ কিংবা ৫০০ রানের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল বাংলাদেশ। অথচ সেই দলই শেষ ১২৫ রান তুলতে হারাল ৮ উইকেট। আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়ে তাই স্বস্তির চেয়ে আক্ষেপই বেশি সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তদের।
৩৪৬ রানের জবাবে ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে আফগানিস্তান। সফরকারীদের ওপর আধিপত্য দেখিয়েছে আফগানরা। এখনো ১৩৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা। ৮৪ রানে রহমত শাহ ও অলিখিল ২৬ রানে অপরাজিত আছেন।
এর আগে বাংলাদেশ ইনিংসে একসময় ছিল ২ উইকেটে ২২১ রান। সেখান থেকে মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাত থেকে ফসকে যায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ক্রমেই ছোট হয়ে আসে। ৩১৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করার সময়ও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল অন্তত আরো কিছু রান যোগ করার। দ্বিতীয় দিনের সকালে লড়াই কিছুটা এগিয়ে নেন নাঈম। তাইজুল ৪ রান করে ফিরে গেলে ভাঙে নবম উইকেটের ৩০ রানের জুটি। এরপর ইবাদত হোসেনও বেশিক্ষণ টিকতে না পারলে ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। নাঈম অপরাজিত থাকেন ৩৫ রানে। আফগানিস্তানের সেলিম চারটি, ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি, ইসমত আলম ২টি এবং কায়েস আহমেদ একটি উইকেট পান।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের ভুলে নতুন জীবন পেয়েও ভালো কিছু করতে পারেননি সেদিকুল্লাহ অটল (১৭)। ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর আফগানিস্তান ৩৪ রানে ১ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায়। ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ফিফটির দেখা পান আব্দুল মালিক। মালিকের ফিফটির খুশিটাই হয়ে থাকল দ্বিতীয় সেশনে আফগানিস্তানের প্রতিচ্ছবি।
দ্বিতীয় সেশনেও ১ উইকেট হারায় আফগানরা। ২ বাউন্ডারিতে ২০ রান করা শহিদুল্লাহকে ফেরান এবাদত। চা-বিরতির পর প্রথম ওভারে সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এবাদতের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরেন আব্দুল মালিক। ভাঙে ৭০ রানের জুটি। ১২০ বলে ৬২ রান করেন মালিক। ৪৬তম ওভারে আফগানিস্তানের রান ৩ উইকেটে ১৩৪। ক্রিজে রহমত শাহর সঙ্গী হাশমাতউল্লাহ শাহিদি। স্রেফ দুই বল খেলে মিরাজের বলে শূন্যতে স্টাম্পড শাহিদি।
পরপর দুই ওভারে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া আফগানিস্তানকে পথে রেখেছেন রহমত শাহ। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ১১২ বলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি আছে তার। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পঞ্চম উইকেটে ১৫৯ বলে রহমত ও ইকরাম অলিখিল পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। এবাদত দু’টি, হাসান মাহমদু ও মিরাজ একটি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬/১০ (তানজিদ ৮৩, সাদমান ৬৭, লিটন ৫৩, মুমিনুল ৩৯, নাঈম ৩৫*, নাজমুল ২৯, মিরাজ ২৪; সেলিম ৪/৮২, ইয়ামিন ৩/৭৯, ইসমত ২/২০, কায়েস ১/৬০)।
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস : ৭৯ ওভারে ২১১/৪ (অটল ১৭, মালিক ৬২, শাহিদউল্লাহ ২০, রহমত ৮৪*, শাহিদি ০, ইকরাম ২৬*; হাসান ১/৩৬, ইবাদত ২/৫০, মিরাজ ১/৩৭)।
দ্বিতীয় দিন শেষে : আফগানিস্তান ১৩৫ রানে পিছিয়ে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








