
নিজস্ব প্রতিবেদক
খ্যাতিমান সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
আমির খসরু দেশের সাংবাদিকতা জগতের পরিচিত মুখ ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি সাপ্তাহিক বিচিত্রা, দৈনিক সংবাদ, হলিডে, দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। সাপ্তাহিক বুধবার পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। স্পষ্টভাষী সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচিত আমির খসরু দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহধন্য ছিলেন তিনি। খসরুর বিয়েসহ বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। খসরুর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর সদরে। তার পিতা ছিলেন সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। পিতার মৃত্যুর পর তার মা নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুনের শিকার হলে আমির খসরুর জীবনকে শোকের ছায়া আচ্ছন্ন করে ফেলে। এরপর তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আমির খসরুর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছে তিনি একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। দেশীয় গণমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঘটনাবলি আন্তর্জাতিক পাঠক-শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে।
সাংবাদিক আমির খসরুর মরদেহ লালমাটিয়া বি ব্লকে নিজ বাসায় নেওয়া হয়েছে। রোববার জানাজার নামাজ শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্থায়ী সদস্য ছিলেন।
বিশিষ্ট সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








