
আবুল কালাম
মাসব্যাপী আমেজ শেষে আজ পর্দা নামছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলার। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী আয়োজিত এ মেলা আজ সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। এবারের মেলায় বই বিক্রি নিয়ে বিক্রেতারা কিছুটা সন্তোষ প্রকাশ করলেও আয়োজকদের উদাসীনতায় প্রচারণার ঘাটতির কারণে মূলধারা থেকে ইসলামী বইমেলা পিছিয়ে পড়ছে।
গতকাল মেলা ঘুরে দেখা যায়। কিছু স্টলে ক্রেতা থাকলেও অনেক স্টল ক্রেতাশূন্য। বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছরে অন্যান্য ইসলামী বই মেলার চেয়ে এবারের মেলায় বিক্রি কিছুটা ভালো হলেও পাঠকের আশানুরূপ উপস্থিতি নেই। তবে মেলায় প্রচার আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন একাধিক স্টল মালিক।
গনমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তাদের অভিযোগ, অমর একুশে বইমেলা নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে যেভাবে প্রতিদিন বিশেষ কাভারেজ, লাইভ সম্প্রচার কিংবা প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করা হয়, ইসলামী বইমেলার ক্ষেত্রে তার বিন্দুমাত্র দেখা মেলে না। সংমাধ্যমের এ উদাসীনতার কারণে ঢাকার বাইরের সাধারণ পাঠক ছাড়াও রাজধানীর পাঠকরাও ইসলামী বইমেলা অনুষ্ঠানের বিষয়টি জানেন না। ফলে মেলাটি বড়ো পরিসরে হলেও পাঠক সমাগম একুশে বইমেলার মতো হয় না।
এ ছাড়া বর্তমান সময়ে যেকোনো কিছুর প্রসারে সমাজমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা রাখলেও ইসলামী বইমেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারাভিযানে কোনো পদক্ষেপ নেন না। ফলে এ মেলা নিয়ে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পাঠক জানতে পারেন না।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বরে এ মেলা শুরু হয়। প্রতিবছর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: এবং রবিউল আউয়াল মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এবারের মাসব্যাপী মেলাটি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে যাচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্যানুযায়ী, এবারের মেলায় স্টলের সংখ্যা ছিল ১৪৪টি। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ভারত, মিসর ও লেবাননের কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে। মেলায় কুরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইসলামী দর্শন, ইতিহাস, গবেষণা, ধর্মীয় সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই রয়েছে। শিশুকিশোরদের জন্যও স্থান পেয়েছে ইসলামী ও শিক্ষামূলক বই। রয়েছে নারী কর্নার, শিশু কর্নার, সিরাত কর্নার ও ম্যাগাজিন কর্নার । পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আলোচনা সভা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ ও প্রকাশকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যৌথ আয়োজনে এ মেলা বই কেনাবেচা ছাড়াও দেশী-বিদেশী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে লেখক, পাঠক, গবেষক ও ইসলামী সাহিত্যপ্রেমীদের একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। সে সাথে বিভিন্ন দেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের ফলে পাঠকেরা দেশী-বিদেশী ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণাধর্মী বই সম্পর্কে জানার এবং সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








