
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে কোটি মানুষের হৃদয়ে শহীদ জিয়াকে গেঁথে দেয়ার উদ্যোগে নিয়েছে সিটি করপোরেশন (নাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উদ্যোগে শহরের প্রাণ কেন্দ্র চাষাড়ায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ১১ তলা শহীদ জিয়া কমপ্লেক্স। জরাজীর্ণতার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন রূপে ফিরছে ঐতিহাসিক শহীদ জিয়া হল। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। জানা গেছে, ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ১১ তলা শহীদ জিয়া কমপ্লেক্স উদ্বোধন করতে আমন্ত্রণ জানানো হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গতকাল দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, শহীদ জিয়া কমপ্লেক্স হবে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ রাখার মতো একটি স্থাপনা। এটা একটা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ১১ তলা কমপ্লেক্সে থাকছে আধুনিক সিনেপ্লেক্স, একাধিক অডিটোরিয়াম, থিয়েটার হল, আর্ট গ্যালারি, লাইব্রেরি, জিয়া জাদুঘর, মহড়া কক্ষ, নামাজের স্থান, ফুড কোর্ট ও প্রশাসনিক কার্যালয়সহ নানা আয়োজন। আমরা চাইব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন এই কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন। আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানাব।
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, ১১ তলা শহীদ জিয়া কমপ্লেক্সে থাকছে আধুনিক সিনেপ্লেক্স, একাধিক অডিটোরিয়াম, থিয়েটার হল, আর্ট গ্যালারি, লাইব্রেরি, জিয়া জাদুঘর, মহড়া কক্ষ, নামাজের স্থান, ফুড কোর্ট ও প্রশাসনিক কার্যালয়সহ নানা আয়োজন। ভবনের নিচে দু’টি বেজমেন্টে থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার জন্যও থাকবে আলাদা কক্ষ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, পাঠচর্চা ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনের জন্য তৈরি হবে একটি আধুনিক কেন্দ্র।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমপ্লেক্সে ২০০ থেকে ২৫০ জন দর্শকের ধারণক্ষমতার একটি সিনেপ্লেক্স থাকবে। এ ছাড়া ৮০০ ও ৩০০ আসনবিশিষ্ট দু’টি অডিটোরিয়াম এবং ৫০০ থেকে ৭০০ আসনের একটি থিয়েটার হল বা মিনি অডিটোরিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতি, ছবি ও ইতিহাস তুলে ধরতে থাকবে দু’টি আর্ট গ্যালারি এবং একটি জিয়া জাদুঘর। একই সাথে ২০০ থেকে ৩০০ পাঠকের ধারণক্ষমতার লাইব্রেরি ও তিনটি মহড়া কক্ষ রাখা হবে। ফলে সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাট্যকর্মী, শিল্পী, পাঠক ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে কমপ্লেক্সে ২০০ থেকে ৩০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের উপযোগী নামাজ কক্ষ, ৭০ থেকে ১০০ জনের ধারণক্ষমতার ফুড কোর্ট এবং প্রশাসনিক কক্ষ থাকবে। এ ছাড়া দু’টি ভিআইপি ও দু’টি ভিভিআইপি বিশ্রামকক্ষ, পাঁচটি সাধারণ বিশ্রামকক্ষ এবং ৫০, ৭৫ ও ১০০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি সভাকক্ষ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কক্ষ, আইটি কক্ষ ও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও থাকবে। দু’টি বেজমেন্টে পার্কিংয়ের সুবিধা থাকায় নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় গাড়ি রাখার সমস্যাও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিহাসে শহীদ জিয়া হলের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। ১৯৫৬ সালে জেলায় একটি স্থায়ী মিলনায়তন নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৭ সালের ৮ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারায়ণগঞ্জ সফরে এসে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চাষাঢ়া বালুর মাঠে টাউন হল নির্মাণের ঘোষণা দেন। ১৯৭৮ সালের ১০ মার্চ তিনি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার ভবনটির নামকরণ করেন ‘শহীদ জিয়া হল’ এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
২০০৮ সালের পর থেকে এর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে ভবনের দরজা-জানালা ও গ্রিল খুলে নেয়া, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া এবং ছাদে পানি জমে শ্যাওলা জন্মানোর মতো পরিস্থিতিতে স্থাপনাটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
শহীদ জিয়া কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়া হবে। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে এর অগ্রগতি সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








