খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির আশঙ্কা

 জিও নিউজ ও ডন
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলন তীব্র করতে দেশের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াবি ইন্টারচেঞ্জে কর্মী-সমর্থকদের জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। ওই সমাবেশ থেকেই পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। পিটিআইকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার সীমানা পেরিয়ে আন্দোলন না সরানোর বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি কিংবা গভর্নর শাসন প্রয়োগের মতো চরম পদক্ষেপের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে ইসলামাবাদ।
পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দী। তার বিরুদ্ধে দেয়া সাজাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে মুক্তির দাবিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের ডাক দেয় দলটি। নির্ধারিত সূচির দুই দিন আগে কর্মসূচি স্থগিত করে পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর থেকে তা শুরু করা হয়। যাত্রার আগে সরকারি প্রতিনিধিদলের সাথে জোড়া বৈঠক হলেও কোনো মীমাংসা হয়নি। গত ৪ অক্টোবর যাত্রা শুরুর পর থেকে আন্দোলনের পথরেখা কয়েক দফায় পরিবর্তন করেছে পিটিআই। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ইসলামাবাদ যাত্রার কথা থাকলেও চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে এখনো কোনো পরিষ্কার ধারণা মেলেনি। সোয়াবির কর্মসূচির পর দলটির পরবর্তী পথ কী হবে, তাও অস্পষ্ট। বর্তমানে এই কর্মসূচির ভৌগোলিক বিস্তার পিটিআই শাসিত খাইবার পাখতুনখাওয়ার ভেতরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে চরসদ্দায় এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি কর্মীদের উদ্দেশ্য করে জানান, সোয়াবি পার হয়ে তাদের আন্দোলনের ধারা অন্যান্য অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হবে। কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে তিনি দাবি করেন, প্রদেশের সীমানা অতিক্রমের পর কর্মীবাহিনীর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি ও লংমার্চ নিয়ে আজ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংবিধানে উল্লেখিত ২৩২ থেকে ২৩৪ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সাবেক উপজাতীয় এলাকাসহ ১২টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাবটি বিবেচনার তালিকায় রয়েছে। এমনকি প্রদেশের শাসনভার সরাসরি কেন্দ্রের হাতে তুলে নেয়ার পথও খোলা রাখা হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি পিটিআইকে সঙ্ঘাতমূলক রাজনীতি পরিহার করার তাগিদ দিয়েছেন। করাচিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি মন্তব্য করেন, পিটিআই তাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক পন্থা বজায় রাখলে ইমরান খানের কারাবাসের মেয়াদ রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির ১৪ বছরের রেকর্ডকেও পেছনে ফেলতে পারে। সোহেল আফ্রিদির নেতিবাচক রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি জানান, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে গভর্নর শাসন হবে সর্বশেষ বিকল্প। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি দেশের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে ইমরান খানকে ক্ষমতার বাইরে পাঠানোর পর থেকে অর্থনীতি তলানিতে ঠেকেছে এবং দেশ বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকের শীর্ষে পৌঁছেছে। ২০০৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রদেশে পরিচালিত হাজার হাজার অভিযানের পরও সন্ত্রাস দমন সম্ভব হয়নি এবং প্রতিনিয়ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রাণ হারাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পেশোয়ার, মালাকান্দ, হাজারা, কোহাট, বান্নু ও ডেরা ইসমাইল খান ডিভিশন থেকে পিটিআইয়ের গাড়িবহর সোয়াবি ও সিপিইসি সড়ক হয়ে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে যুক্ত হবে। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সিনেটর আফ্রাসিয়াব খটক পরিস্থিতির মূল্যায়নে জানান, প্রদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পাঞ্জাব ও রাজধানীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানের মুখে আন্দোলনের গতি থমকে যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাদেশিক সরকার চরম চাপের মুখে রয়েছে এবং সেখানকার মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের অপহরণের ঘটনাও ঘটছে।

Advertisement