
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজার বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি চালু করার ব্যাপারে সিএসইকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। পুঁজিবাজারকে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীর কাছে গ্রহণযোগ্য করার পদক্ষেপ হিসেবে এ ধরনের নতুন নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রামে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে ‘ডাইভারসিফিকেশন ফর রেজিলিয়েন্স : দি রোল অব কমোডিটি ডেরিভেটিভস ইন এ মডার্ন পোর্টফলিও’ শিরোনামের এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমিশনের চেয়ারম্যন মাসুদ খান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির প্রধান কাজ হচ্ছে ফেয়ারলি লেনদেন নিশ্চিত করা, মেনিপুলেশন হতে না দেয়া এবং ইনভেস্টরদের সুরক্ষা প্রদান করা।
সিএসই’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইনভেস্টরদের সুরক্ষা করাটা খুব জরুরি। কারণ এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ ভাগ বিনিয়োগকারী হচ্ছেন রিটেইল/ইন্ডিভিজুয়াল ইনভেস্টর, যেখানে পাশের দেশ ইন্ডিয়াতে সেটি হচ্ছে ৩৩ ভাগ, মালয়েশিয়াতে ১৭ ভাগ। শেয়ারের যথাযথ মূল্যমান নিরূপণ করে শেয়ার মেনেজ করার পদ্ধতি যে একটি বিজ্ঞান, সেটি বিনিয়োগকারীদের খুব কম অংশই জানেন। এই কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পরে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম কাজ ছিল ইনভেস্টরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সে জন্য সারভিলেন্স সিস্টেমের উন্নয়ন, ডি রেগুলেশন, সেলফ রেগুলেশনে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন রেগুলেটর ও ফেসিলেটর হিসেবে পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বাজার উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। কমিশন মার্কেট ক্যপিটালাইজেশন বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, এটি হলে বাজারে লেনদেনও অনেক বেড়ে যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় আইপিও ও ডাইরেক্ট লিস্টিং-এর মাধ্যমে দেশী, বহুজাতিক, বড় মূলধনী এ রকম কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বন্ধ থাকা ডাইরেক্ট লিস্টিং উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাইব্রিড পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের ফলে আমরা আশা করছি, যথাযথ প্রাইস ডিসকভারি হবে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে এবং পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত নতুন কোম্পানিগুলোরও যথাযথ মূল্য নিরূপণ হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মার্কেট ডেপথ বাড়ানোর জন্য করপোরেট বন্ড লিস্টিংকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিচ্ছি এবং মার্কেট ডাইভারসিফিকেশনের জন্য নতন প্রোডাক্টগুলো (ইটিএফ-এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড, আরইআইটি-রিয়েল স্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট) আনার কাজ খুব গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নিচ্ছি।
সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সিএসইর পরিচালক প্রফেসর ড মো: সাইফুল ইসলাম, ড. মাহমুদ হাসান, এম জুলফিকার হোসেইন, নাজনিন সুলতানা, এফসিএ, ফরিদা ইয়াসমিন, মেজর (অব:) এমদাদুল ইসলাম, মো: নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সিএসইর ব্রোকার্স প্রতিনিধিরা এবং বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, এফসিএ, এফসিএমএ।
স্বাগত বক্তব্যে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিভিন্ন সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব সঙ্কটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গভর্নেন্স এবং সিস্টেম-জনিত সমস্যা। এর ফলাফল হলো সক্রিয় বিও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেশী দেশসহ সারা বিশ্বে যেখানে প্রতিনিয়ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে সেখানে আমাদের মার্কেটে উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বা ডিগ্রোথ হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে নতুন কমিশন গঠিত হওয়ার পর বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের এবং সিস্টেমেটিক সঙ্কট উত্তরণের জন্য যে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তাতে আশা করি ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এ দিকে দেশের পুঁজিবাজারগুলো গত সপ্তাহটিও পার করেছে হতাশার মধ্য দিয়ে। সপ্তাহের শেষ দু’দিন সূচকের কিছুটা উন্নতি ঘটলেও প্রথম তিনটি কর্মদিবসে বড় ধরনের পতন ঘটে সূচকের। বড় ধরনের অবনতি ঘটে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনেরও।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে (০৪ সেপ্টেম্বর-০৮ সেপ্টে:) ৫৬ দশমিক ০৭ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। ৫ হাজার ৫৩১ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট থেকে রোববার লেনদেন শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশষায়িত সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচকটি ২ দশমিক ১৩ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও সিএসই শরিয়াহ সূচকটির অবনতি ঘটে ১৩ দশমিক ২৯ পয়েন্ট।
সপ্তাহের শুরুতেই সূচকের অবনতি বাজারে যে মন্তর গতি তৈরি হয় তা ডিএসই’র লেনদেনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। হ্রাস পায় লেনদেন। গত সপ্তাহে বাজারটি মোট দুই হাজার ৭৮২ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসই’র মোট লেনদেন ছিল তিন হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। একই হারে হ্রাস পেয়েছে বাজারটির সপ্তাহিক গড় লেনদেনও। গত সপ্তাহে ডিএসই’র গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৫৫৬ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে এই গড় লেনদেন ছিল ৭০৬ কোটি টাকা।
সূচকের অবনতি গত সপ্তাহে ডিএসই’র বাজার মূলধনেও কমবেশি প্রভাব ফেলে। ছয় লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে সপ্তাহ শুরু করা বাজারটির মূলধন সপ্তাহান্তে দাঁড়ায় ছয় লাখ ৮৪ হাজার২০৬ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা দশমিক ২৫ শতাংশ কম।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








