
দোহার (ঢাকা) সংবাদদাতা
নামের ও বাবার নামের আংশিক মিলের কারণে অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামির পরিবর্তে নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঢাকার দোহার উপজেলার সুন্দরীপাড়া এলাকার শেখ খলিলের ছেলে মো: আলমাছ (৪০) গত ১১ মাস ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। পরিবারের দাবি, তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং মিরপুরের অস্ত্র মামলার আসামি নন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাহমুদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুবায়দুল ইসলাম আলমাছকে আটক করেন। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর থেকে তার পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। স্বামীকে মুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ে ধারদেনা করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলে জানান স্ত্রী বন্যা আক্তার।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল মিরপুর থানা পুলিশ অস্ত্রসহ মো: আলমাছ ও নাজমুল আলম মামুন নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে। ওই মামলায় ২০০৪ সালে ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১ আলমাছকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। নথিতে তার বাবার নাম খলিল আহম্মদ এবং ঠিকানা দোহারের নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা গ্রাম উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে না পেয়ে পুলিশ নাম ও বাবার নামের আংশিক মিল থাকায় সুন্দরীপাড়ার আলমাছকে গ্রেফতার করেছে। তার মা রওশানা বলেন, ছেলে কখনো ঢাকায় থাকেননি; এলাকায় ইলেকট্রিকের কাজ করে সংসার চালাতেন।
স্ত্রী বন্যা আক্তার জানান, ২০১৮ সালেও তার স্বামীকে একই মামলায় আটক করা হয়েছিল। তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিচয়সংক্রান্ত বিভ্রান্তির বিষয়টি সামনে এলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এবারো ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করে তিনি ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চান।
প্রতিবেশী সিরাজন মোল্লা ও স্থানীয় বাসিন্দা কাওছার আহমেদ শাওনেরও দাবি, অস্ত্র মামলার প্রকৃত আসামির পরিবার বহু বছর আগে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
দোহার থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে আলমাছ নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি প্রকৃত আসামি না হলে আদালতে নির্দোষ প্রমাণের মাধ্যমে খালাস পেতে পারেন। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








