
ইকবাল হোসেন লিমন বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
একসময় নদী-খালবিলের পানিতে জাল ফেললেই মিলত কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, পুঁটি, মলা, শোল, টাকি, বাইমসহ নানা দেশীয় মাছ। এখন সে চিত্র বদলে যাচ্ছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারীর নদী-খালবিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে নির্বিচারে ব্যবহৃত হচ্ছে অতিসূক্ষ্ম ফাঁসের ‘চায়না দুয়ারি’ জাল। এতে মাছের রেণু-পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা-মাছ পর্যন্ত আটকা পড়ছে। একই সাথে মারা যাচ্ছে বিভিন্ন জলজ প্রাণী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এ জালের ব্যবহার। চন্দনা-বারাশিয়া, কুমার ও মধুমতী নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে সারিবদ্ধভাবে জাল বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি দাদুড়িয়া, পুটিমারি ও আষাঢ়ে বিলসহ বিভিন্ন বিল, প্লাবনভূমি, জলমহাল ও সংযোগ খালেও এর ব্যবহার বেড়েছে।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, চায়না দুয়ারি অতিসূক্ষ্ম ফাঁসযুক্ত রিংভিত্তিক টানেল ফাঁদ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘ম্যাজিক জাল’, ‘রিং জাল’ বা ‘ঢলুক জাল’ নামেও পরিচিত। পানির নিচে দীর্ঘ সময় স্থির থাকা এ জালে মাছের পাশাপাশি ব্যাঙ, কুচিয়া, জলজ সাপ, শামুক, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের রামায়ণ রাজবংশী বলেন, কয়েক বছর আগেও সাধারণ জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করা যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে দেশীয় মাছের পরিমাণ কমে গেছে। পেশাদার জেলেরাও সারা দিন জাল ফেলেও আগের মতো মাছ পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাশয়ে জাল ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি বিক্রি হচ্ছে। তাদের মতে, শুধু জলাশয় থেকে জাল জব্দ নয়, বিক্রয়কেন্দ্র ও সরবরাহের উৎসেও নজরদারি প্রয়োজন। চতুল গ্রামের ওমর আলী বলেন, নিয়মিত অভিযান, বিক্রয়কেন্দ্রে নজরদারি এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ জরুরি।
বোয়ালমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পবিত্র কুমার দাস বলেন, গত মাসের ৩০ তারিখে অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করা হয়েছে। লোকবল সঙ্কট থাকলেও মা ইলিশ রক্ষার অভিযানের পাশাপাশি নদী-খালবিল ও জলাশয়ে চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, মৎস্য বিভাগ ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এক-দুই দিনের মধ্যে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। চায়না দুয়ারির ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বিচারে রেণু পোনা ও মা মাছ নিধন চলতে থাকলে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হবে। এর প্রভাব পড়বে মানুষের খাদ্য, জেলেদের জীবিকা এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর। তাই প্রাকৃতিক জলাশয় ও দেশীয় মাছ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগ জরুরি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








