ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলনের ইজারা

বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা
বিয়ানীবাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী থেকে সরকারি ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন এবং সরাসরি বাধা দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গত ১ অক্টোবর শেওলা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ চরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে শেওলা-দীঘলবাগ এলাকার বাসিন্দাদের বাধার মুখে পড়েন ইজারাদার। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে নদীতে নৌকা নিয়ে বালু উত্তোলন ঠেকাতে স্থানীয়দের টহল দিতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণভাগ চরটি বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা নিয়েছেন জুবের আহমদ। ইজারা নেয়ার পর সেখানে বালু উত্তোলন শুরু করতে গেলে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী জমি, বাড়িঘর, রাস্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীতে ভেঙে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় যুবক মিজু বলেন, প্রতিনিয়তই নদীপাড়ের জমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইজারাদাররা ড্রেজার দিয়ে ইজারাকৃত এলাকার বাইরে গিয়েও বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মানববন্ধনও করা হয়েছে। প্রয়োজনে রাত জেগে পাহারা দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে।
তবে ইজারাদার জুবের আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রশাসন বালু উত্তোলনের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে। তারা ওই স্থান থেকেই বালু উত্তোলন করতে গেলে কয়েকজন যুবক ড্রেজার মেশিনে হামলার চেষ্টা করেন। বৈধভাবে ইজারা নিয়েও বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি যৌক্তিক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় ইজারা না দেয়া হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। বর্তমানে ইজারাদারদের নদীর তীর থেকে ৪০ ফুটের বাইরে নির্ধারিত স্থানে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে নির্দেশনা অমান্য করায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Advertisement