
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
গতকাল সারা দেশে বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের সাথে গঙ্গা চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজসহ বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সমান অংশীদার করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী ভারতের কাছ থেকে অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা গত ৫০ বছরেও পায়নি। ভারত ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি নিয়ন্ত্রণ নয়, বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও হাতিয়ার ব্যবহার করছে।
নাহিদ বলেন, সরকার, বিরোধী দল এবং ভারত ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক চাওয়ার কথা বলে আসছে। বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায় বলেও জানিয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশের নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি কিভাবে হচ্ছে, তার মধ্য দিয়েই তা প্রমাণ করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু পানি নয়, নদীর যৌথ হিসাবের প্রশ্নে, নদী ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশকে অংশীদারত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশের নদী এই গঙ্গা, পদ্মা- অথচ আমরা জানি না, এই নদীতে কত পরিমাণ, কত কিউসেক পানি আসলে প্রবাহিত হয়। এই তথ্য পর্যন্ত আমাদের সরবরাহ করা হয় না।’
তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক চায়, তাহলে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন চুক্তি সমভাবে ও ন্যায্যভাবে সম্পাদন করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের শাহাদতকালে তারা ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিয়েছিলেন। দিল্লির আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখার কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশের আশপাশের অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গকে বুঝতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি-সমৃদ্ধি যতটা দিল্লির ওপর নির্ভরশীল, তার চেয়ে বেশি বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের আশপাশের সব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে কম্প্রোমাইজ করব না। আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যায় আমরা একবিন্দু পরিমাণ ছাড় দেবো না। এ বছর যে গঙ্গা চুক্তি হবে, সেখানে ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করতে হবে। পাশাপাশি তিস্তাসহ সব নদীর পানি বণ্টন প্রক্রিয়া, নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যাতে সমান অংশীদারিত্ব পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’
আবরার ফাহাদ হত্যার রায় কার্যকরের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, গত দুই বছরেও আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করা যায়নি। ওসমান হাদির বিচারের রায় এবং জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায়ও এখনো কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, খুনিদের যে ফাঁসির দণ্ড হয়েছে, সেই রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চান তারা। বাংলাদেশ যদি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, তাহলে আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে।
তিনি বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না। সরকার গঙ্গা চুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি কিভাবে সম্পাদন করে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে, সেটি তারা দেখতে চান। সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বাংলাদেশের স্বার্থ কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না। সরকার চীন যাচ্ছে, জাতিসঙ্ঘে যাচ্ছে, বিভিন্ন নেতার সাথে ছবি তুলছে ও বৈঠকের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু গত সাত মাসে বাংলাদেশ কী অর্জন করতে পেরেছে, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়।
তিনি বলেন, অবিলম্বে জনগণের সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। গঙ্গা চুক্তিসহ যত আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করতে হবে। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই এসব চুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
ইবিতে শিবিরের মানববন্ধন
ইবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আবরার ফাহাদ হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মানববন্ধন করেছে ছাত্রশিবির। মানববন্ধনে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের রায় দ্রুত কার্যকর, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং দেশের মানুষের প্রতি অন্যায়, হয়রানি ও বৈষম্য বন্ধের দাবি জানানো হয়।
একই সাথে বিচার ও প্রশাসন দলীয়করণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, অফিস সম্পাদক আবদুস সামাদ ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক এমাদুর রহমানসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে আলোচনা সভা ও দোয়া
এ দিকে চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী ও নিপীড়ন বিরোধী দিবস উপলক্ষে ‘আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান পালন করেছে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা।
গতকাল এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আবরার ফাহাদ ছিলেন আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদের প্রতীক।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পক্ষে কথা বলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। তার শাহাদত তরুণ প্রজন্মকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহসের সাথে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। আবরারের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়ার নয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








