
ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো: মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তে পক্ষপাত, মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তিতে প্রভাব বিস্তার, তদন্তাধীন ব্যক্তিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে করা একটি লিখিত অভিযোগে চার কোটি, পাঁচ কোটি এবং ব্যবসায়ী মো: মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা নেয়ার দাবিসহ একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ, শেয়ারবাজারে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দুদকের একাধিক স্মারক, তদন্তসংক্রান্ত নথি, প্রশাসনিক রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি মামলায় তদন্তের গতি, আসামি নির্বাচন, মামলা দায়ের এবং তদন্তের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর ধরন ও আর্থিক অঙ্ক বিবেচনায় বিষয়টি শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রশ্ন উঠছে, এসব অভিযোগ সত্য হলে তার হাতে তদন্তাধীন মামলাগুলোর নিরপেক্ষতা কতটা নিশ্চিত ছিল এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর ফলাফল নতুন করে পরীক্ষা করা প্রয়োজন কি না।
অনুমোদন ছিল, মামলা হয়নি- কেন?
অভিযোগপত্রে কয়েকটি দুদক স্মারকের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কমিশন মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মামলা দায়েরে অস্বাভাবিক বিলম্ব করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই বিলম্বের সময়ে তদন্তাধীন ব্যক্তিদের সাথে সমঝোতা এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের একটি স্মারকের কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মামলা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন- এমন দাবিও রয়েছে।
এখানে অনুসন্ধানের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত- কমিশনের অনুমোদনের তারিখ থেকে মামলা দায়ের বা তদন্ত সমাপ্তির মধ্যে কত সময় ব্যবধান ছিল? তদন্ত কর্মকর্তা কী সুপারিশ করেছিলেন? কমিশনের অনুমোদন কি পরিবর্তন হয়েছিল? মামলা না হওয়ার কারণ নথিতে কী লেখা আছে?
এই চারটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগটির একটি বড় অংশ যাচাই করা সম্ভব।
অভিযোগপত্রে আরো কয়েক শ’ ব্যক্তির নিয়োগে অনিয়মের একটি তদন্তের কথা বলা হয়েছে। সেখানে তদন্তাধীন ব্যক্তিদের দুদকে হাজির করে ভয়ভীতি দেখানো এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মূল অভিযুক্তদের সুবিধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কর্মকর্তার নোট, জবানবন্দী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাজিরার রেকর্ড এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চার কোটি ও পাঁচ কোটি টাকার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক ঘটনায় চার কোটি এবং পাঁচ কোটি টাকা নেয়ার দাবি করা হয়েছে।
একটি ঘটনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট তদন্তের সময় চার কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আরেকটি ঘটনায় একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা নেয়া এবং বিদেশে অবস্থানরত একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সমঝোতার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা হলো- শুধু অভিযোগপত্রে অর্থের অঙ্ক উল্লেখ থাকলেই অর্থ লেনদেন প্রমাণিত হয় না। টাকা কোথা থেকে এসেছে, কার হিসাবে গেছে, নগদ হলে কে বহন করেছে, কোনো মধ্যস্থতাকারী ছিল কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া অভিযোগটি যাচাইযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায় না।
তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব, ফোন ও যোগাযোগের আইনসম্মত রেকর্ড, সম্পদ বিবরণী, মামলার সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের সিদ্ধান্ত পাশাপাশি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
১৬ কোটি টাকার অভিযোগের উৎস কী?
অভিযোগপত্রের সবচেয়ে বড় আর্থিক দাবিটি ব্যবসায়ী মো: মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে ঘিরে। এতে বলা হয়েছে, মশিউর রহমানের সাথে মিঠুর এক সময় ঘনিষ্ঠতা ছিল। পরে সম্পর্কের অবনতি হলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, একপর্যায়ে মিঠুর কাছ থেকে ১৬ কোটি টাকা নেয়া হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে মামলা থেকে সুবিধা দেয়ার কথা ছিল। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়।
অভিযোগপত্রে আরো দাবি করা হয়েছে, মিঠু আদালতে দাঁড়িয়ে মশিউর রহমানকে ১৬ কোটি টাকা দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এখানেই অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হতে পারে আদালতের কার্যবিবরণী। মিঠু সত্যিই আদালতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন কিনা, দিলে কোন মামলায়, কোন তারিখে এবং কোন জবানবন্দীতে- তা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ একটি আদালত-নথিভুক্ত বক্তব্য এবং একটি অভিযোগপত্রের দাবি একই বিষয় নয়।
যদি আদালতের নথিতে এমন বক্তব্য পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তী প্রশ্ন হবে- তার সমর্থনে কোনো আর্থিক বা যোগাযোগের প্রমাণ আছে কি না।
সম্পদ : আয় দিয়ে কতটা ব্যাখ্যা সম্ভব?
অভিযোগপত্রে মশিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে পশ্চিম কাফরুলে একাধিক ফ্ল্যাট, বারিধারায় ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে জমি, টুঙ্গিপাড়ায় জমি এবং একটি টয়োটা গাড়ির মালিকানার দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তার নামে বা বেনামে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানো এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ সাদা করার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।
এখানে সম্পদের পরিমাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্থের উৎস। দুদকে জমা দেয়া সম্পদ বিবরণী এবং আয়কর রিটার্নে এসব সম্পদের ঘোষণা আছে কি না- এটাই প্রথম যাচাই। এরপর দেখতে হবে ক্রয়মূল্য কত, কখন কেনা হয়েছে এবং সে সময় তার বৈধ আয় কত ছিল।
শেয়ারবাজারের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিও হিসাব, লেনদেনের বিবরণী ও অর্থের উৎস পরীক্ষা করলেই বড় অংশ পরিষ্কার হতে পারে। একইভাবে বিদেশে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ যাচাই করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সম্পত্তি রেজিস্ট্রির তথ্য প্রয়োজন।
অর্থাৎ, অভিযোগটি যাচাই করার পথ রয়েছে এবং তা মূলত নথিনির্ভর।
বেনজীরের জব্দ সম্পদ : সবচেয়ে স্পর্শকাতর অভিযোগ
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সম্পদ জব্দ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের জব্দ সম্পদের ব্যবস্থাপনায় গঠিত ছয় সদস্যের কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন মশিউর রহমান। ওই সময়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা, দলিল ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এ অভিযোগ সত্য হলে এটি কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম নয়; জব্দ সম্পদের হেফাজত ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নও তৈরি করবে।
অভিযোগটি প্রমাণের জন্য প্রয়োজন জব্দ তালিকা, কমিটির কার্যবিবরণী, সম্পদ হস্তান্তরের রেকর্ড, সংরক্ষণস্থলের তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবানবন্দী এবং প্রয়োজনে ভিডিও বা অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে মশিউর রহমানের ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের দাবি করা হয়েছে।
‘নয়ন রহমান’ নামে একটি ফেসবুক প্রোফাইলের উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বিভিন্ন পোস্টের কথাও বলা হয়েছে।
তবে ওই অ্যাকাউন্ট মশিউর রহমানের- এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক যাচাই প্রয়োজন। অনুসন্ধানে প্রশ্ন হবে- রাজনৈতিক যোগাযোগ কি তার তদন্তের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে কিনা? কোনো নির্দিষ্ট মামলায় রাজনৈতিক নির্দেশে কাউকে আসামি করা বা বাদ দেয়া হয়েছে কিনা? কোনো তদন্তের গতি রাজনৈতিক কারণে পরিবর্তিত হয়েছে কি না?
দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন : সংগঠন না প্রভাববলয়?
২০২২ সালে দুদক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গঠনের সময় মশিউর রহমান সভাপতি ছিলেন বলে প্রকাশ্য তথ্য রয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি হওয়া কোনো অনিয়ম নয়। তবে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সংগঠনের সাংগঠনিক প্রভাব ব্যবহার করে বদলি-পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংগঠনের সভার কার্যবিবরণী, সংশ্লিষ্ট সুপারিশ এবং একই সময়ে হওয়া বদলি-পদায়নের নথি পর্যালোচনা করা করা যেতে পারে।
মশিউর রহমান গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুদকের অভিযান পরিচালনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এবং বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযানসহ বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে তার ভূমিকার কথা প্রকাশ্য সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে। অর্থাৎ, তিনি প্রকাশ্যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
এখন তার বিরুদ্ধেই যদি তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে, তাহলে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন তৈরি হয়- তিনি যেসব মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন, সেগুলোর ফলাফল কি অন্য কোনো স্বাধীন কর্মকর্তা দিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত?
২০১২ সালের এসিআরও পুনরায় দেখা দরকার?
অভিযোগপত্রে ২০১২ সালের এসিআরে তার তদন্তকাজ, আচরণ ও আর্থিক সুবিধা নেয়ার বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের দাবি করা হয়েছে।
যদি মূল এসিআরে এসব মন্তব্য সত্যিই থেকে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে কিভাবে মূল্যায়ন পরিবর্তিত হলো এবং কোন ভিত্তিতে তার পদোন্নতি বা দায়িত্ব বৃদ্ধি হয়েছে- তা প্রশাসনিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
তবে কোনো পুরনো এসিআরের একটি মন্তব্যকে বর্তমান দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এটি কেবল তখনই প্রাসঙ্গিক হবে, যখন পরবর্তী ঘটনাবলির সাথে তার একটি নথিভিত্তিক ধারাবাহিকতা পাওয়া যাবে।
এখন তদন্তের মুখ্য পাঁচ প্রশ্ন
মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য অন্তত পাঁচটি বিষয়ে স্বাধীন যাচাই জরুরি-
এক. অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সব দুদক স্মারকের মূল ফাইল কোথায় এবং সেগুলোর সিদ্ধান্ত কী ছিল?
দুই. মামলা দায়েরের অনুমোদন পাওয়ার পর বাস্তবে মামলা দায়েরে কোনো অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছিল কি না?
তিন. চার কোটি, পাঁচ কোটি ও ১৬ কোটি টাকার অভিযোগের পক্ষে ব্যাংক, আদালত, যোগাযোগ বা সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে কি না?
চার. মশিউর রহমান ও তার পরিবারের ঘোষিত সম্পদ এবং প্রকৃত সম্পদের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না?
পাঁচ. তার তদন্ত করা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করলে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় কোনো অস্বাভাবিক পক্ষপাত পাওয়া যায় কি না?
জবাবদিহি দুদকের নিজের ক্ষেত্রেও
দুর্নীতি দমন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার কর্মকর্তাদের সততা ও তদন্তের নিরপেক্ষতার ওপর। একজন তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে দু’টি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ- অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে দ্রুত নিরসন।
প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, মশিউর রহমান সাম্প্রতিক সময়েও দুদকের বিভিন্ন মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বা বাদি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তার বাদি হিসেবে করা একটি মামলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই, আবার প্রমাণ ছাড়াই দোষী সাব্যস্ত করারও সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো- অভিযোগগুলো একজন স্বাধীন তদন্তকারী কর্মকর্তা বা নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা এবং একই সাথে তার তদন্ত করা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর নমুনাভিত্তিক ফরেনসিক পর্যালোচনা করা।
শষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মশিউর রহমান একা নন। প্রশ্নটি হলো- দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ, কতটা স্বাধীন ও কতটা জবাবদিহিমূলক।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক করার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, দুদকের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ করতে হবে; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে নথি দিয়ে তা খণ্ডন করতে হবে।
এই মুহূর্তে প্রয়োজন রায় নয়- নথি খুলে দেখা। অভিযোগ নয়- প্রমাণের মুখোমুখি দাঁড় করানো। আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তদন্তের তদন্তে কোনো পক্ষপাত না থাকা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








