কালীগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

 কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বেগম রাবেয়া আহমেদ উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বেতন, সেশন ফি, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিল ও পরীক্ষার ফি থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও পাঁচ মাসেও জমা পড়েনি প্রতিবেদন। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে বিদ্যালয়ের ছয় সহকারী শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভাষ কুমার সাহা, সহকারী শিক্ষক শাহানাজ পারভীন, মৃত্যুঞ্জয় দত্ত ও অফিস সহকারী মানস কুমার গুন পরস্পর যোগসাজশে গত দুই বছরে আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, রসিদ ছাড়াই নগদ লেনদেন, ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে টাকা তোলা এবং শিক্ষকদের হয়রানির পেছনে মূল ইন্ধনদাতা অফিস সহকারী মানস কুমার।
শিক্ষকদের আবেদনের ভিত্তিতে গত ৯ জুন ইউএনও এ টি এম কামরুল ইসলাম চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একাডেমিক সুপারভাইজার জিনাত রেহানা শারমীনকে আহ্বায়ক করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে পাঁচ মাস পার হলেও প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ৩ লাখ ২১ হাজার টাকার বেতন নগদে দিয়ে পরে ব্যাংক থেকে আবার চেকে তুলে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেজিস্টারের রেভিনিউ স্ট্যাম্পযুক্ত পাতার স্বাক্ষর ছিঁড়ে ফেলা এবং দরপত্র ছাড়াই ভবন সংস্কার কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভাষ কুমার সাহা বলেন, বিদ্যালয়ের পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে সভাপতি ও আমার যৌথ স্বাক্ষরে লেনদেন হয়। এককভাবে টাকা তোলার সুযোগ নেই। তবে কেনাকাটা বা হিসাব সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

Advertisement