
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শাহজাহানপুরের মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাহিমা আক্তারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। ‘সময়মতো অস্ত্রোপচার না করার’ অভিযোগ তুলে স্বজনরা হাসপাতালে বিচার দাবি করলে গত রোববার রাতে হাসপাতালটিতে ব্যাপক ভাঙচুর, তাণ্ডব ও সঙ্ঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। অন্য দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুল চিকিৎসার অহেতুক অজুহাতে একদল লোক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে এবং হাসপাতালে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষই শাহজাহানপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটব্যথা নিয়ে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাহিমাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। নিহতের চাচাতো ভাই শাহরিয়ার সবুজের ভাষ্যমতে, প্রথমে মাহিমাকে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়; পরে অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় তাকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে মেয়েটির অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয় ধরা পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকেরা রাতে অস্ত্রোপচার করেননি। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেয়া হলেও শনিবার সকালে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগেই মাহিমার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় মাহিমার অকাল মৃত্যু হয়েছে। মাহিমার মৃত্যুর পর স্বজনরা লাশ নিয়ে গাজীপুরে দাফন করেন এবং পরে ঘটনার বিচার চেয়ে হাসপাতালে যোগাযোগ শুরু করেন। শাহরিয়ার সবুজ চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে দাবি করেন, তারা কেবল ঘটনার সুষ্ঠু সুরাহা চেয়েছিলেন।
অন্য দিকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রায়হান হাসান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখনই তার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন ছিল এবং অ্যাপেন্ডিসাইটিস বাস্ট হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার পর শনিবার সকালে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ- লাশ দাফন করে আসার পর শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ ও রেলওয়ে কলোনির কিছু লোক হাসপাতালে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকে। আবুল কালাম আজাদ জানান, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও প্রায় ১০০ লোক এসে জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগী ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করার চেষ্টা করে। রোববার রাত ১০টার দিকে নৈশ ডিউটির কর্মীরা তাদের সামনে থেকে সরে যেতে বললে তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর শুরু করে। এরপর হামলাকারীরা হাসপাতালের এক নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঢুকে লেবার রুমসহ কাচ ভাঙচুর করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এ সময় সংঘর্ষে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং হাসপাতালের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।
এ বিষয়ে শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিরুল ইসলাম জানান, রোগী মৃত্যু ও পরে হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই পক্ষের দেয়া অভিযোগই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আইনি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পাশাপাশি হামলায় আহত সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রেজওয়ানুল ইসলাম।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








