হিসাবের মারপ্যাঁচে বই চুরি করছেন প্রেস মালিকরা

 শাহেদ মতিউর রহমান

Advertisement

নিজেদের ছাপানো বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রেস মালিকরা নিজেরাই চুরি করছেন। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে বেশ কিছু প্রেস মালিক হিসাবের গরমিল করে কম বই সরবরাহ করার কৌশল নিয়েও অবশেষে ধরা পড়েছেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম  ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)  চৌকস কর্মকর্তার নজরদারিতে বিষয়টি ফাঁস হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা একাধিক টিমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত কয়েক দিনের অভিযানে এই তথ্য উদঘাটন করা  সম্ভব হয়েছে। 
সূত্র জানায়, অনেক বছর আগে থেকেই এমন কূট-কৌশলের কারণে শত কোটি টাকা গচ্ছা গেছে সরকারের। বিশেষ করে আওয়ামী আমলে চিহ্নিত কিছু প্রেস মালিক নানা কৌশলে বই কম দিয়ে বরং বেশি সংখ্যক বইয়ের মূল্য তুলে নিয়েছেন। গতকাল সোমবার বই কম দিয়ে বেশি সংখ্যার হিসাব দেয়া পাঁচটি প্রেসকে চিহ্নিত করেছে এনসিটিবি।  
সরকার প্রেস নামে (মালিক ওমর ফারুক) একটি প্রেস প্রায় ৩৫ হাজার বই কম দিয়ে বেশি বইয়ের পিডিআই (প্রি ডেলিভারি ইন্সপেকশন) করিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করেছে। পরে এই চুরির ঘটনা ফাঁস হয়ে  গেছে। এ ছাড়া মৌসুমী প্রেস নামের আরেকটি প্রেসেও ১২ হাজার ৭২৫ কপি বই কম দিয়ে সরকারের সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারাও ধরা পড়েছে। 
এনসিটিবি সূত্র জানায়, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স নামে অন্য একটি প্রেসেও কম বই ও নি¤œ মানের বই জব্দ করা হয়েছে। একইভাবে মেসার্স মহানগর অফসেট প্রিন্টিং প্রেস থেকেও বইয়ের হিসাবে এমন কারসাজির ঘটনা ধরা পড়েছে। গত সপ্তাহে লেটার অ্যান্ড কালার নামের অন্য একটি প্রেসেও কম বই এবং নি¤œ মানের কাগজে মাদরাসার তথা ইবতেদায়ি পর্যায়ের সংখ্যায় অনেক বেশি পরিমাণের পাঠ্যবই মুদ্রণের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। এইসব বইয়ের ছাড়পত্র বা পিডিআই নিয়েও বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে লেটার অ্যান্ড কালারের মালিক কাজী মো: সিরাজ মিয়াকে। 
বিভিন্ন প্রেস মালিকদের প্রেসে বা ছাপাখানাতেই এমন বই চুরির ঘটনার তথ্য উৎঘাটনের নেপথ্যের  কর্মকর্তা এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক)  প্রফেসর মো: আবু নামের টুকু নয়া দিগন্তকে জানান, নানা কৌশলে প্রেস মালিকরা আমাদের (সরকারকে) ধোকা দিতে চায়। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে সর্বদাই তৎপর রয়েছি। আমরা তিনটি সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে শক্তিশালী মনিটরিং টিম গঠন করেছি। মূলত এই টিমের সদস্যদের কৌশল আর বুদ্ধির কারণেই বিভিন্ন প্রেসের বই চুরির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এখন আরো তৎপর হয়ে আগামী দিনগুলোতে কাজের পরিধি  বিস্তৃত করব। এনসিটিবির এই কর্মকর্তা আরা বলেন, আমাদের কাছে এবার কোনো ছাড় নয়, যেকোনো মূল্যে এ বছর আমরা ভালো মানের এবং সময়মতো সব বই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে কাজ করছি। বইয়ের মানের বিষয়ে কাউকে একচুলও ছাড় দেয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 
হিসেবে বই  কম দেয়া বা  চুরির বিষয়টি নিয়ে গতকাল মুঠোফোনে কথা হয় সরকার প্রেসের মালিক ওমর ফারুকের সাথে। নিজের পরিচয় দিয়ে বই চুরির বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সাথে সাথেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।  লেটার অ্যান্ড কালারের মালিক মো: কাজী সিরাজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকেও পাওয়া যায়নি। পরে বেশ করেকবার তাকে ম্যাসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।