ইসরাইলি উপস্থিতি না মানার ঘোষণা সোমালিয়ার

আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটে সোমালিয়াকে জড়ানোর যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে ঘোষণা করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ। আলজাজিরাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই’ সোমালিয়ায় ইসরাইলের উপস্থিতি মেনে নেবে না তার দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটে সোমালিয়াকে জড়ানোর যেকোনো চেষ্টাও তারা প্রতিহত করবে। 
মাহমুদ বলেন, ইসরাইল বারবেরা শহরে একটি নৌঘাঁটি স্থাপন এবং শহরটির বিমানবন্দর ব্যবহারের নীলনকশা আটছে। তার মতে, এর আসল মতলব হলো উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের কাছাকাছি অবস্থান নেয়া। বারবেরা সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডের আদেন উপসাগরীয় উপকূলের একটি বন্দরনগরী। গত বছর ইসরাইল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। তবে মোগাদিশু এখনো অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। 
ইয়েমেনের বিপরীত উপকূলে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে বারবেরার অবস্থান। ইরানঘনিষ্ঠ হাউছিরা এর আগে ওই এলাকায় ইসরাইলের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করেছিল। মাহমুদ বলেন, ‘ইসরাইলের পদক্ষেপের কারণে আমাদের দেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, আমরা তা মোকাবেলা করব।’ 
তিনি বলেন, ইসরাইলের এসব পরিকল্পনা ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রকল্পের অংশ। এই পরিকল্পনার আওতায় ইসরাইলের বর্তমান সীমান্তের বাইরের ভূখণ্ডও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা বলা হয়। কথিত ‘বৃহত্তর ইসরাইলের’ কিছু কিছু সংস্করণে নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।  ২০২৫ সালের আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, এই পরিকল্পনার সাথে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত মনে করেন। তার ওই মন্তব্যে আরব দেশগুলো নিন্দা জানিয়েছিল। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরাইলকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশটি আন্তর্জাতিক আইন মানে না। ডিসেম্বরে ইসরাইলের সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। মাহমুদের ভাষ্য, ইসরাইল ছাড়া আর কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি ওই অঞ্চলের বাসিন্দারাও সেখানে ইসরাইলি উপস্থিতির পুরোপুরি বিরোধী। সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজস্বভাবে শাসনব্যবস্থা চালাচ্ছে।

Advertisement