আজ নয়া দিগন্তের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
আজ নয়া দিগন্তের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

জননন্দিত দৈনিক নয়া দিগন্তের আজ ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন। এটা শুধু দিন, মাস বা বছর গোনার দিন নয়। পিছনে ফিরে তাকানো ও জবাবদিহিতার একটি দিন। যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়া দিগন্ত তার যাত্রা শুরু করেছিল, তার মূল্যায়ন করার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে এই দিন। যে অঙ্গীকার নয়া দিগন্ত দিয়েছিল তার কতটুকু রক্ষা করেছে, কতটুকু পারেনি। সেই আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি হতে হবে আজ। যতটুকু পারিনি তার দায় কতটা আমাদের। যতটুকু পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। যতটুকু পারিনি সেটা কি শুধু নয়া দিগন্ত’র অক্ষমতা? আমরা কি শুধু নিজেদের অযোগ্যতার কারণে পারিনি? নয়া দিগন্ত’র প্রিয় পাঠক- এর মূল্যায়নের ভার আপনাদের কাছে রাখছি। নয়া দিগন্ত শুধু কি একটা অনুকূল পরিবেশে দিন যাপন করে? জাতির সাথে আমরাও কি ভয়ঙ্কর একটি সময় কাটাইনি? সেটা এক মাস বা এক বছর নয়, দীর্ঘ ১৭ বছর। যে দৈনিকের বয়স ২৩ বছরে পা দিচ্ছে, তার ১৭ বছর কেটেছে প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে। এখন অনেকটা মরে বেঁচে আছে। এমন বেঁচে থাকা যেন শুধুই অর্থহীন। তার পরও নয়া দিগন্ত’র প্রদীপটা এখনো জ্বলছে। তার কৃতিত্ব অন্য কারো নয়, শুধু মাত্র নয়া দিগন্ত’র সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের আত্মত্যাগ, অপরিসীম ধৈর্য। আর রয়েছে নয়া দিগন্ত’র আদর্শ ও অঙ্গীকারের প্রতি ভালোবাসা। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশে যেমন রাজনীতি, অর্থনীতি ও জনগণের প্রশান্তি নির্মিত হয়। ঠিক তেমনই মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশে সংবাদপত্রও স্বস্তির সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারে। সাথে তার অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য থাকে। সেই দেড় যুগের বৈরী শাসন নয়া দিগন্ত’র টুটি চেপে ধরেছিল। দিবা-নিশি যুদ্ধ করে নয়া দিগন্ত এখনো মরে বেঁচে আছে।

Advertisement

আমরা জানি, সংবাদপত্র কেবল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির বিবেক, সময়ের দলিল এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসী উচ্চারণ। নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্ত ২৩ বছরে পদার্পণ করছে। এই পথচলা মসৃণ ছিল না। আজ আত্মসমালোচনা, আত্মবিশ্লেষণ ও নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর যে প্রত্যয় নিয়ে নয়া দিগন্তের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল পাঠকের কাছে সত্যকে তুলে ধরা, জনমানুষের কথা বলা এবং দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া। সে প্রচেষ্টা আজও নয়া দিগন্ত বুকে জড়িয়ে রেখেছে।

২৩ বছরে পদার্পণের এই দিনটি আমাদের আনন্দিত করছে বটে। সেই সাথে আবার দায়িত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত শক্তি তার প্রচারসংখ্যা কিংবা বাহ্যিক সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়; তার আসল শক্তি পাঠকের আস্থা, সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক অবস্থান থেকে জাতিকে সেবা করা। এখানেই আমাদের অটুট অবস্থান।

নয়া দিগন্তের ২২ বছরের এই যাত্রায় যাঁরা পাশে ছিলেন, যাঁরা ভালোবেসেছেন, সমালোচনা করেছেন এবং ভুল শুধরে দিতে পরামর্শ দিয়েছেন ‘সবার প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। তাঁদের প্রত্যাশা ও বিশ্বাসই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। একই সাথে এই দৈনিকে যারা বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাঁদের প্রতি রইল আমাদের কৃতজ্ঞতা। আমাদের প্রিয় বিপণনকারী সাথীদের প্রতিও গভীর শুভেচ্ছা। স্মরণ করি তাদের, অতীতের কষ্টের দিনে যারা আমাদের সহযোগী ছিলেন। আগামীতেও তাদের সহযোগিতা, আমাদের পথচলাকে সাহস জোগাবে, ইনশাআল্লাহ।

২২ বছরের অভিজ্ঞতা হোক আগামী দিনের শক্তি। সত্য, দায়িত্ব ও জনমানুষের আস্থাকে সঙ্গী করে নয়া দিগন্ত এগিয়ে যেতে চায় আরো বহুদূর।