চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি), কমিউনিটি পুলিশিং, কেএমপি কমিশনার মো: সাজ্জাদুর রহমান, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), জনাব মো: আলী হোসেন ফকির বিপিএম
আইজিপি জনাব মো: আলী হোসেন ফকির বিপিএম। সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জনাব মো: আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেছেন, ‘জন-আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

Advertisement

শনিবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং খুলনা এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

কেএমপি কমিশনার মো: সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো: রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসন করাই আমাদের লক্ষ্য। ৫ আগস্টের পর পুলিশ দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পুলিশ কাজ করছে। জনগণের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই, জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে; যাতে সমাজে কোনো মাদক না থাকে, চাঁদাবাজ না থাকে, কিশোর গ্যাং না থাকে। আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপরাধ নির্মূল করবো।’

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে। বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এ লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রমকে একটি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে কমিউনিটি পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব যেন আর না হয় সেজন্য একটি আইনি কাঠামোর ভেতরে কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

সাংবাদিকদেরকে সমাজের দর্পণ আখ্যায়িত করে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান করুন। আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠন করতে পারবো।’

পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনাস্থ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।