স্থিতির মধ্যেও স্থবির উন্নয়ন
স্থিতির মধ্যেও স্থবির উন্নয়ন।

হামিদুল ইসলাম সরকার

Advertisement

দেশে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ নেই। রাজপথে নেই হরতাল, অবরোধ কিংবা আন্দোলনের তাণ্ডব। স্বাভাবিক ছন্দে চলছে কর্মদিবস। কিন্তু রাজনীতির এই স্থিতিশীলতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস পার হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চাকা যেন ঘুরতেই চাইছে না।
জুলাই-আগস্ট- অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে মাত্র ১.৮৫ শতাংশে। ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত পাঁচ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি সর্বনি¤œ। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ তিন অর্থবছরের তুলনায়ও বর্তমান বাস্তবায়ন হার প্রায় অর্ধেক বা তারও কম।
অর্থাৎ রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, রাজপথে কর্মসূচি নেই, প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের আন্দোলন নেই- তারপরও উন্নয়ন ব্যয়ের গতি বাড়েনি। প্রশ্ন উঠছে- রাজনৈতিক বাধা না থাকলেও উন্নয়ন আটকে আছে কোথায়?
পাঁচ বছরের তুলনায় তলানিতে : পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে জুলাই-আগস্টে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
তুলনাটি আরো স্পষ্ট। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩.৮৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩.৮৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২.৫৭ শতাংশে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের  হার ছিল ২.৩৯ শতাংশ।
আর চলতি অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ১.৮৫ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের শুরুতে এডিপি বাস্তবায়নের হার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে।
শুধু আগস্টের হিসাবেও চিত্রটি হতাশাজনক। ওই মাসে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা এডিপির মাত্র ১.১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে ব্যয় হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ কোটি ১৮ লাখ টাকা বা ১.৭১ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের ব্যয় কমেছে ৪৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
শুধু টাকা খরচ নয়, এর অর্থ কী?
এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে যাওয়াকে কেবল সরকারি হিসাবের একটি সংখ্যা হিসেবে দেখলে সমস্যাটির গভীরতা বোঝা যাবে না। উন্নয়ন বাজেটের টাকা খরচ মানে শুধু সরকারের ব্যয় নয়; এর সাথে যুক্ত থাকে নির্মাণকাজ, ঠিকাদারি, শ্রমের চাহিদা, সিমেন্ট-রড-পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর বাজার, পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান।
ফলে বছরের শুরুতে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি কমে গেলে তার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন বেসরকারি বিনিয়োগও দুর্বল এবং অর্থনীতিতে চাহিদার চাপ রয়েছে, তখন সরকারি উন্নয়ন ব্যয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে। সেই জায়গাতেই যদি সরকারি ব্যয় থমকে যায়, তাহলে প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।
বৈদেশিক অর্থায়নে সবচেয়ে বড় ধীরগতি
এডিপির ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৯৮৬টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২৩টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ১০৯টি কারিগরি সহায়তা, ৯টি উন্নয়ন সহায়তা ব্লক এবং ৪৫টি নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প।
অর্থায়নের উৎসের দিকে তাকালে ধীরগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্পষ্ট হয়।
জিওবি বা সরকারি তহবিল থেকে জুলাই-আগস্টে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪৯ কোটি টাকা, যা সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের ২.১৩ শতাংশ। কিন্তু প্রকল্প ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ বরাদ্দের মাত্র ১.২২ শতাংশ।
সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় হয়েছে ৩২৩ কোটি টাকা বা ৩.৬২ শতাংশ।
অর্থাৎ এডিপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারে।
এর পেছনে দাতা সংস্থার শর্ত, অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রতা- সবকিছুই ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুরনো মেগা প্রকল্পের ভার
চলতি অর্থবছরের এডিপির বড় একটি অংশ এখনো পুরনো মেগা প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট এডিপির সাড়ে ১২ শতাংশের মতো বরাদ্দ রাখা হয়েছে পাঁচটি বড় প্রকল্পে।
এর মধ্যে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলের দু’টি লাইন, মাতারবাড়ী বন্দর এবং বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো। শুধু রূপপুর প্রকল্পেই বরাদ্দ রয়েছে ১৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।
ফলে এসব বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন যদি ধীর থাকে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সামগ্রিক এডিপি বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে বৈদেশিক অর্থায়নের অংশের ব্যয় যেখানে মাত্র ১.২২ শতাংশ, সেখানে বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ধীর হওয়াই স্বাভাবিকভাবে মোট বাস্তবায়ন হারকে নিচে টেনে রাখছে।
এখানে উন্নয়ন বাজেটের একটি কাঠামোগত দুর্বলতাও সামনে আসে- বড় অঙ্কের অর্থ কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্পে কেন্দ্রীভূত থাকায় সেগুলো থমকে গেলে পুরো এডিপিই ধীর হয়ে পড়ে।
সড়ক-বিদ্যুৎ-রেলেও গতি নেই
বড় অবকাঠামো খাতগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৬৬ শতাংশ। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে ২.২৩ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ বিভাগে ২.১৩ শতাংশ। নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের ক্ষেত্রেও বাস্তবায়ন প্রায় স্থবির পর্যায়ে।
এসব খাতেই রয়েছে দেশের যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, বন্দর ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রধান প্রকল্পগুলো। ফলে এই খাতগুলোর ধীরগতি শুধু এডিপি বাস্তবায়নের সমস্যা নয়; এটি ভবিষ্যৎ উৎপাদন সক্ষমতার সাথেও সম্পর্কিত।
প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, দরপত্র, ঠিকাদার নির্বাচন, ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং প্রশাসনিক অনুমোদন- বিভিন্ন স্তরের জটিলতায় অনেক প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে ধীরগতিতে।
রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক স্থবিরতা?
এবারের পরিস্থিতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো-আগের বছরগুলোর মতো রাজনৈতিক সঙ্ঘাতকে উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে দেখানোর সুযোগ কম।
তাহলে সমস্যা কোথায়? বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে কয়েকটি কারণ- সিদ্ধান্তহীনতা, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন, অগ্রাধিকার নির্ধারণে সময়ক্ষেপণ, অর্থছাড়ের জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর আগের সরকারের আমলে নেয়া প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। কোন প্রকল্প থাকবে, কোনটি বাদ যাবে, কোনটির অগ্রাধিকার কমবে- এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে অর্থছাড় ও বাস্তবায়নের গতি কমে যাচ্ছে।
এখানে একটি স্বাভাবিক প্রশ্নও উঠছে- প্রকল্প যাচাই-বাছাই কি উন্নয়নের গতি কমানোর মূল্যেই করতে হবে?
প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ভালো প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ করার সুফল পাওয়ার আগেই উন্নয়ন ব্যয়ের গতি কমে যায়।
বৈদেশিক সহায়তার নতুন বাস্তবতা
বৈদেশিক অর্থায়ননির্ভর প্রকল্পগুলোতে সমস্যাটি আরো জটিল।
নতুন সরকার আগের সরকারের সাথে করা কিছু চুক্তি ও প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করছে। কিছু ক্ষেত্রে ভারতীয় ঋণ বাতিল বা বিকল্প অর্থায়নের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, দাতাসংস্থার সাথে আলোচনা এবং প্রকল্পের কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজন হচ্ছে।
এর সাথে যোগ হয়েছে দাতা সংস্থাগুলোর নিজস্ব শর্ত ও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া। ফলে একটি প্রকল্প কাগজে অনুমোদিত থাকলেও বাস্তবে অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এডিপির বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশই বৈদেশিক অর্থায়ননির্ভর।
নতুন সরকারের উত্তরাধিকার
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের বিশ্লেষণে বিষয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে।
তিনি বলেছেন, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাস্তবায়ন ধীর হওয়ার পেছনে মৌসুমি প্রভাব থাকে। এর সাথে এবার যোগ হয়েছে নতুন সরকার। আগের সরকারের রেখে যাওয়া অনেক প্রকল্প এডিপিতে রয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে বর্তমান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত অনেক প্রকল্পের বিষয়ে কার্যকরভাবে এগোতে পারছে না।
তার মতে, আগের সরকারের রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক বিবেচনায় নেয়া অনেক প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কর্মকর্তারা এখন আর নেই। নতুন এমপিরা নিজেদের এলাকার প্রকল্পগুলোর বিষয়ে নতুন করে ভাবছেন। প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে।
এর সাথে সরকারের আর্থিক চাপও বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি। সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা কমেছে। জ্বালানি খাতের ব্যয়ও চাপ বাড়াচ্ছে।
অর্থাৎ এডিপির বর্তমান স্থবিরতার পেছনে একক কোনো কারণ নেই; রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং আর্থিক সঙ্কট- সব একসাথে কাজ করছে।
বছরের শুরুতেই ঘাটতি, শেষে তাড়াহুড়োর আশঙ্কা
বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে একটি পুরনো প্রবণতা হলো- অর্থবছরের প্রথম দিকে ধীরগতি, আর শেষ দিকে তীব্র ব্যস্ততা।
প্রথম কয়েক মাসে অর্থ খরচ হয় না। এরপর অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে বরাদ্দ খরচ করতে প্রকল্পে তাড়াহুড়ো শুরু হয়। এতে অনেক সময় কাজের মান কমে, ব্যয়ের দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের বাস্তবায়ন হার যদি বছরের পরবর্তী সময়েও দ্রুত না বাড়ে, তাহলে শেষ দিকে একই ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা কমানো না গেলে বছরের শুরুতে সৃষ্টি হওয়া ঘাটতি পরে পূরণ করা কঠিন হয়। আর এর প্রভাব পড়ে প্রকল্পের মানেও।
এটি শুধু অর্থ খরচের হিসাব নয়। একটি প্রকল্প যত দেরিতে শেষ হবে, জনগণ তত দেরিতে তার সুবিধা পাবে। একই সাথে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এখন দরকার ‘কম প্রকল্প, দ্রুত বাস্তবায়ন’
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট- শুধু এডিপির আকার বড় করলেই উন্নয়ন হয় না। বরং কতগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্য, কতগুলো অর্থনৈতিকভাবে অগ্রাধিকারযোগ্য এবং কতগুলো দ্রুত শেষ করা সম্ভব- সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন সরকারের সামনে তাই তিনটি কাজ জরুরি।
প্রথমত. চলমান প্রকল্পগুলোর দ্রুত শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে- অত্যাবশ্যক, অগ্রাধিকারযোগ্য ও স্থগিতযোগ্য।
দ্বিতীয়ত. বৈদেশিক অর্থায়ননির্ভর প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে অর্থছাড়ের বাধা দ্রুত দূর করতে হবে।
তৃতীয়ত. প্রকল্প অনুমোদন থেকে অর্থছাড়, দরপত্র, ভূমি অধিগ্রহণ ও বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে হবে।
প্রকল্প বাতিল বা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে সেটিও দ্রুত করতে হবে। কারণ অনিশ্চয়তায় ঝুলিয়ে রাখা কোনো প্রকল্পই অর্থনীতির জন্য ভালো নয়।
উন্নয়নের চাকা কি আমলাতন্ত্রে আটকে?
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একা উন্নয়ন নিশ্চিত করে না।
প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিতা, অর্থায়নের নিশ্চয়তা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দক্ষতা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের এডিপি বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে- রাজপথ শান্ত হলেই উন্নয়নের চাকা আপনাআপনি ঘোরে না।
এখন বাধা যদি রাজনীতি না হয়, তাহলে বাধাটি কোথায়- সিদ্ধান্ত গ্রহণে, আমলাতন্ত্রে, অর্থায়নে নাকি প্রকল্প নির্বাচনের কাঠামোতেই?
প্রশ্নটির উত্তর দ্রুত খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ এডিপির টাকা শুধু একটি বাজেটের হিসাব নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো এবং আগামী দিনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা।
রাজনীতি স্থিতিশীল হয়েছে- এবার উন্নয়নের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোই সরকারের বড় পরীক্ষা।