
সিএনএন ও আলজাজিরা
গাজা যুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। একই সময়ে তার মালিকানাধীন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যাফিনিটি পার্টনার্স ইসরাইলি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিনিক্স ফাইন্যান্সিয়ালের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার। আর ফিনিক্স ইসরাইলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমসসহ অন্তত আটটি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। এ কারণে কুশনারের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সম্ভাব্য স্বার্থের সঙ্ঘাতের প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অনুসন্ধান করেছে সিএনএন। সেখানে দেখা গেছে, ফিনিক্স ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর সাথে ব্যবসা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ অন্তত ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার, এলবিট সিস্টেমসে। প্রতিষ্ঠানটি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত এক বছরে শত শত কোটি ডলারের চুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের জন্য প্রায় ২০ কোটি ডলার, ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলার জন্য চার কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং সামরিক ট্যাংক আধুনিকায়নের জন্য ২১ কোটি ডলারের চুক্তি রয়েছে। এলবিটের মোট আয়ের ৩২ শতাংশের উৎস ইসরাইল, যা ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় বাজার ছিল। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এলবিটের শেয়ারের দাম ১৬৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের পণ্যের চাহিদা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’। ফিনিক্সের আরেকটি বড় বিনিয়োগের আকার ছয় কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি, নেক্সট ভিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে। তারা সামরিক ড্রোনের জন্য ক্যামেরা তৈরি করে এবং এলবিট ও ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করে। এ ছাড়া ফিনিক্স অন্তত চার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে রেশেফ টেকনোলজিসে, যারা কামানের গোলার জন্য ইলেকট্রনিক ফিউজ তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তারা ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অর্ডার পেয়েছে। ফিনিক্সের আরো বিনিয়োগ রয়েছে ইসরাইল শিপইয়ার্ডস, আশোট আশকেলন, বোয়িং ও ক্যাটারপিলারে। ইসরাইল শিপইয়ার্ডস ইসরাইলি নৌবাহিনীর জন্য দ্রুতগতির হামলাকারী নৌযান তৈরি করে। ফিনিক্সের ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ৫২৪ ডলার। আশোট আশকেলন ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে এবং এতে ফিনিক্সের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার রয়েছে।
এ ছাড়া ফিনিক্সের বোয়িংয়ে ৪০ লাখ ডলার এবং ক্যাটারপিলারে ২৫ লাখ ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বোয়িংয়ের পণ্যগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ছোট ডায়ামিটার বোমা রয়েছে।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








