
নানা অভিযোগে কয়েক শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় যান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ সময় রুমিন ফারহানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন।
তবে, অভিযোগগুলো অস্বীকার করে থানায় লোকজন নিয়ে এসে মব করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করার পাল্টা অভিযোগ করেছেন ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘থানায় লোকজন নিয়ে এসে মব করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন এমপি মহোদয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যা করা প্রয়োজন তাই করা হবে।’
এ ব্যাপারে এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে তা দেয়ার বিধান রয়েছে। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানা থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাওয়া গেলেও সরাইল থানা থেকে কোনো নিরাপত্তা দেয়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘ইলেকটেড এমপি হিসেবে ১০ বার ফোন করলেও তিনি (ওসি) ফোন ধরেন না। আমার লোকজন কোনো সহযোগিতা চাইলে তিনি কোনো প্রকার সহযোগিতা করেন না।’
এ সময় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, মাটি কাটা ও বালু ব্যবসা থেকে অর্থ নেয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করার অভিযোগ তোলেন রুমিন ফারহানা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কয়েক শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে সরাইল থানা চত্বরে যান এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
এ সময় বেশিরভাগ কর্মী-সমর্থক থানার সামনে অবস্থান করলেও কিছু সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে রুমিন ফারহানা ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে নানা অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার সাথে মুখোমুখি তর্ক-বিতর্কে জড়ান।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেন, ‘একজন ইলেকটেড এমপি ১০ বার ফোন করলেও আপনি ফোন ধরেন না। নিরাপত্তা চাইলেও আপনি নিরাপত্তা না দিয়ে বলেন, আমার (রুমিন ফারহানার) লোকজন আমাকে নিরাপত্তা দেবে। তাই আমার নিরাপত্তার জন্য সাথে লোকজন নিয়ে এসেছি।’
এছাড়া নানা অভিযোগ তুলে থানায় বসে ওসির সাথে মুখোমুখি তর্কে জড়ান এমপি রুমিন ফারহানা। একই সময়ে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া এমপি রুমিন ফারহানার সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটা থানা। এভাবে লোকজন নিয়ে এসে মব করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন না।’
এ সময় ওসি থানা কার্যালয়ে লোকজনের হট্টগোলের ভিডিও ধারণ করে রাখার নির্দেশনা দেন এবং ভিডিও কলে থানা কার্যালয়ে উপস্থিত লোকজনের হট্টগোলের দৃশ্যটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।
এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মুখোমুখি তর্কাতর্কির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








