ফ্লাভিও বলসোনারো ও লুলা দা সিলভা
ফ্লাভিও বলসোনারো ও লুলা দা সিলভা। সংগৃহীত ছবি

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও তার ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হচ্ছেন।

Advertisement

রোববারের চূড়ান্ত দফার ভোটের আগে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সমর্থন পেতে দুই প্রার্থীই শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় সাবেক কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো লুলার চেয়ে ২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ভোট পান। তিনি মোট ভোটের ৪৭ শতাংশ পেয়েছিলেন।

ফ্লাভিওর এই অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি ব্রাজিলের বামপন্থিদের সক্রিয় করে তুলেছে। রোববারের রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দেশজুড়ে বড় বড় নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে ৮১ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছানো বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলাও শেষ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার জোরদার করেছেন। তিনি নিজের হাতে মোবাইল ধরে ভিডিও প্রকাশ করছেন। এমনকি জীবনে প্রথমবারের মতো একটি মুঠোফোনও কিনেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ডেটাফোলহা ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীরই ভোটারদের সমর্থন ৫০ শতাংশ করে। অথচ দুই সপ্তাহ আগে প্রকাশিত জরিপে ফ্লাভিও বলসোনারো ৪ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।

রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডোমিনিয়ামের পরিচালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিয়ান্দ্রো গাবিয়াতি বলেন, ‘লুলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে—এমন কোনো নির্ণায়ক আঘাত তিনি এখনো হানতে পারেননি। এই বিতর্কই হতে পারে তার শেষ সুযোগ।’

শুক্রবার রাতে রিও ডি জেনেইরোতে দেশটির বৃহত্তম টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টিভি গ্লোবো আয়োজিত বিতর্কের দিকে তাকিয়ে আছেন ব্রাজিলের ভোটাররা।

রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম বিতর্ক দ্রুতই পাল্টাপাল্টি অপমান ও কটাক্ষে রূপ নেয়। ফলে সেখানে নীতিগত প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ খুব কম ছিল।

রিওর দন্তচিকিৎসক লিজি মোরেইরা বলেন, ‘বিতর্কগুলো আবারো পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মতো পর্যায়ে নেমে গেছে, যা একেবারেই অযৌক্তিক।’

৬০ বছর বয়সী মোরেইরা বলসোনারোকে ভোট দেবেন। তার মতে, লুলার নীতিগুলো ‘জনতুষ্টিবাদী’।

‘ভুয়া খবর’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
বিতর্কে দুই প্রার্থীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে অনলাইনে একটি আবেদন করা হয়েছে। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। আবেদনকারীরা টিভি গ্লোবোকে সরাসরি তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রচারে ব্যাপক হারে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তুলেছে।

বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ফোর্তালেজায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, তাকে ‘অনেক ভুয়া খবরের’ জবাব দিতে হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমানোর জন্য তিনি সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেবেন—এমন অভিযোগের প্রতিবাদ জানান তিনি।

লাতিন আমেরিকার অন্যান্য ডানপন্থি নেতার মতো ফ্লাভিওও কঠোর নিরাপত্তানীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং লুলাকে রাজনীতি থেকে ‘অবসর নেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

জবাবে লুলা বলেছেন, ‘পরিবর্তন মানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া নয়।’

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেলো হরিজন্তেতে এক বামপন্থি সমাবেশে ২২ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েলা ফেরেইরা বলেন, ‘লুলা আমার সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব করেন। আমি দরিদ্র। আমি একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করতে আমি বৃত্তির ওপর নির্ভরশীল।’

সাবেক শ্রমিকনেতা লুলা নিজেকে গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছেন। বলসোনারো পরিবারের আবার ক্ষমতায় ফেরার বিরোধিতার ওপরও তিনি অনেকাংশে নির্ভর করছেন।

২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার দায়ে জাইর বলসোনারো ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

সূত্র : বাসস