
আমিনুল ইসলাম
- মগবাজার-মালিবাগে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা
- প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি ব্যবসায়ীদের
রাজধানীর মগবাজার ও মালিবাগ এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মার্কেট দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ফরচুন শপিংমল ও মৌচাক মার্কেটসহ আশপাশের বাজারের দখল নিতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এর মধ্যে এক ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে পুলিশে দেয়ার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমাগত দখল-পাল্টা দখল ও অস্থিরতায় ক্রেতাসঙ্কট দেখা দেয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং শহীদ কমিশনারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত নাসির উদ্দিন দুলাল ফরচুন মার্কেট ও অ্যাপার্টমেন্ট সমিতির নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে কব্জা করে রাখেন। ক্ষমতার দাপটে আর্থিক দুর্নীতি, এজমালি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে সমিতি থেকে নাসির উদ্দিন দুলালকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দুলাল আত্মগোপনে যান। অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থেকেই তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন হত্যা মামলাকে হাতিয়ার বানিয়ে বর্তমান কমিটির সদস্যদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা শুরু করেন। ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছু দিন চুপ থাকলেও পরবর্তীতে রমনা থানা বিএনপির সদস্যসচিব শামীম হোসেন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা বদরুল আলম সবুজসহ প্রভাবশালীদের ওপর ভর করে তিনি পুনরায় মালিবাগের মার্কেটগুলোতে দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজি শুরু করেন। ইতোমধ্যে বর্তমান মার্কেট কমিটির ৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অন্তত ২৮টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ফরচুন মার্কেট দখল করার উদ্দেশ্যে প্রথমে পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে ১০ লাখ টাকার মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হয়। মামলায় উদ্ভট দাবি করা হয় যে, মার্কেট মসজিদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রবীণ বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের জন্য দোয়ার আয়োজন করার অজুহাতে এই চাঁদা দাবি করা হয়েছে। অথচ পরিচালনা কমিটির নেতারা জানান, তারা নিজেরাই স্বেচ্ছায় বেগম খালেদা জিয়া ও মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন।
চাঁদাবাজির মামলায় কাজ না হওয়ায় গত মাসে মার্কেট কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে টার্গেট করা হয়। প্রকাশ্যে তার পকেটে জোরপূর্বক ৯০ পিস ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে সন্ত্রাসীরা। তবে এই কাণ্ডের পুরো দৃশ্য মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়ে এবং তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচ দিন পর আদালত ইসমাইল হোসেনকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেন। একই সাথে মূল চক্রান্তকারী নাসির উদ্দিন দুলালের শ্যালক মেহেরাব হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। শান্তর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলারও একাধিক মামলা রয়েছে।
ইয়াবা কাণ্ডের প্রমাণ সিসিটিভিতে ধরা পড়ায় দুর্বৃত্তরা এখন মার্কেটের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজির কারণে মালিবাগের মার্কেটগুলোতে সাধারণ ক্রেতারা আসতে ভয় পাচ্ছেন। এতে বিপণিবিতানগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ বিষয়ে রমনা থানা বিএনপির সদস্যসচিব শামীম হোসেনের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্যিক অঞ্চলকে বাঁচাতে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ীরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








