প্রাথমিকে ‘মিড ডে মিল’ চালু বেড়েছে শিক্ষার্থী উপস্থিতি

সাইফুল ইসলাম নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) 
বেলা ১১টা বাজার আগেই নাঙ্গলকোটের আলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এডিশন গ্রুপের ফিল্ড অর্গানাইজার আবদুর রহমান মজুমদার। সতর্কতার সাথে প্যাকেট খুলে কার্টনে সাজাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের টিফিন। কিছুক্ষণ পরই সেই পুষ্টিকর খাবার নিয়ে হাজির হচ্ছেন প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের দরজায়। খুদে শিক্ষার্থীরাও বিপুল উৎসাহে তাদের জন্য বরাদ্দ দেয়া টিফিন গ্রহণ করছে। 
কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার আলিয়ারা ও খাঁড়ঘর দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শতভাগ শিক্ষার্থীর জন্য মিলছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পুষ্টিকর মিড ডে মিল (দুপুরের খাবার)। 
জানা গেছে, উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামের ব্যবসায়ী ও ‘এডিশন ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা আমিনুর রশিদের নিজস্ব মানবিক উদ্যোগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিয়মিত এ টিফিন দেয়া হচ্ছে। নিজের গ্রামের আলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২৫০ জন শিক্ষার্থী) এবং নানাবাড়ির এলাকা খাঁড়ঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (১০৫ জন শিক্ষার্থী) মোট সাড়ে তিন শ’ শিশুর জন্য প্রতিদিন ঘুরেফিরে তিন-চারটি আইটেমের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেয়া হয়। মেনুতে থাকে ড্রাই কেক, স্লাইস কেক, বান, ক্রিম রোল, স্যান্ডউইচ, বিস্কুট ও মতিচুরের লাড্ডু। শীতকালে যুক্ত হয় সিদ্ধ ডিম।
টিফিনের সুবিধা পেয়ে শিক্ষার্থীরাও বেশ উচ্ছ্বসিত। আলিয়ারা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাফিসা জাহান বলে, ফ্রিতে দেয়া এ খাবারে  দুপুর পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। খাঁড়ঘর স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নওশিন জাহান মাহি জানায়, আগে টিফিনের পর অনেকে বাড়ি চলে যেত, এখন খাবার পাওয়ায় কেউ আর বাড়ি যায় না। 
খাঁড়ঘর স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা সুলতানা এবং আলিয়ারা স্কুলের প্রধান শিক্ষক লায়লা পারভীন জানান, নিয়মিত টিফিন পাওয়ার পর থেকে স্কুলে ঝরে পড়া কমেছে এবং উপস্থিতির হার ৯৫ থেকে শতভাগে উন্নীত হয়েছে। শিশুদের অপুষ্টি দূর হওয়ার পাশাপাশি পড়ালেখায় মনোযোগও অনেক বেড়েছে। 
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নিজাম উদ্দিন বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিড ডে মিল চালুর ফলে দু’টি প্রতিষ্ঠানেই অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। দুপুরের বিরতির পর শিক্ষার্থীদের বাড়িতে চলে যাওয়ার প্রবণতা একদম বন্ধ হয়েছে। ফলে সার্বিক শিক্ষার গুণগত মানও প্রত্যাশিত মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement