নাচোলে বিলুপ্তির পথে বাঁশ বেতের কুটিরশিল্প
নাচোলে বিলুপ্তির পথে বাঁশ বেতের কুটিরশিল্প।

মো: মনিরুল ইসলাম নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের দাপটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতের কুটির শিল্প বিলুপ্তির পথে। একসময় এ শিল্প ছিল বহু পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। ঘরের কাছের বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি হতো কুলা, ঝুড়ি, ডোল, মোড়া, চাটাই, খাঁচা, দোলনাসহ নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ঝুঁকছেন কারিগররা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ছিল। ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে মাছ ধরার সরঞ্জাম, হাঁস-মুরগির খাঁচা ও বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরিতে এসব পণ্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু প্লাস্টিক, মেলামাইন ও অন্যান্য আধুনিক সামগ্রীর সহজলভ্যতায় বাঁশ-বেতের পণ্যের বাজার সংকুচিত হয়েছে।
উপজেলার বাঁশ-বেতের কারিগর আবু বক্কার ও আনসার আলী জানান, কয়েক যুগ ধরে তারা এ পেশার সাথে যুক্ত। একসময় এ কাজের আয় দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলত। এখন পণ্যের দাম ও চাহিদা দুটোই কমেছে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। সরকারি সহায়তাও তারা পাননি।
কারিগররা বলেন, বাঁশ-বেতের পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং আধুনিক সামগ্রীর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঐতিহ্য ধরে রাখতে লোকসান হলেও তারা কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ দেয়া না হলে একসময় এ শিল্প পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাচোল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতসহ কুটির শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ রয়েছে। তালিকাভুক্ত কুটির শিল্পীদের ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যথাসাধ্য সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দিতে হবে। সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া না হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে থাকা এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে।

Advertisement