
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরে ছিনতাই নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ছিনতাইকারীরা নিরাপদ এলাকা হিসেবে আবাসিক ও জনশূন্য এলাকাকে বেছে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর কিংবা দিনের ব্যস্ত সময়ে সুযোগ বুঝে পথচারী, রিকশা ও গণপরিবহনের যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। অভিযোগ উঠেছে, মোবাইল বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনতাই হলেও পুলিশ ছিনতাইয়ের মামলা না নিয়ে ‘হারিয়েছে’ উল্লেখ করে জিডি নেয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ বা মামলা করছেন না।
৩০ সেপ্টেম্বর ইশরাত জাহান নামের এক নারীকে রাত আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকা দিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীরা পথ গতিরোধ করে তার ব্যবহৃত আই ফোন ১২ ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় তিনি পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে ‘হারিয়েছে’ উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করে। তিনি বলেন, ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে আমার ফোনটি কেড়ে নিয়ে দ্রুত চলে গেল, কিন্তু থানায় কোনো প্রকার মামলা না নিয়ে এক প্রকার হারিয়েছে বলে সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য করা হয়। এমন ঘটনা প্রতিদিন চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য হারে ঘটছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা এলাকার সতীশ বাবু লেনে রিকশাযাত্রীর পথরোধ করে ছুরি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করে এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই কদমতলী এলাকায় এক কাস্টমস কর্মকর্তার ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিন ব্যক্তি তাকে পথরোধ করে এসব সামগ্রী নিয়ে যায়। পরে সদরঘাট এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাই হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
অতি সম্প্রতি নগরীর সিআরবি এলাকায় সকালে হাটতে গিয়ে এক শিল্পপতি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা ওই শিল্পপতির মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
অবশ্য স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি জানানোর পর ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
চলতি মাসের ২৪ সেপ্টেম্বর বাসে থাকা এক যাত্রীর মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। আবার ২৫ সেপ্টেম্বর নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় এক নারীর হাত থেকে ব্যাগ টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলেও তিনি থানায় মামলা করেননি।
এর আগে ২৯ আগস্ট কাজীর দেউড়ি আলমাস সিনেমা এলাকার কাছেও রিকশায় থাকা এক শিক্ষার্থী ও তার বান্ধবীর ব্যাগ টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ব্যাগে মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছিল। এসব ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তারা থানায় মামলা করেননি।
ছিনতাই, চুরি, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি সিএমপি কমিশনার পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর দামপাড়া পুলিশ লাইনসে মাসিক কল্যাণ সভায় তিনি নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ দমনে পুলিশকে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








