নীলফামারীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডাকঘরের ‘স্পিড পোস্ট’

নীলফামারী প্রতিনিধি 
নীলফামারীতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সরকারি ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’ সেবা। চলতি বছরের জুলাই থেকে নীলফামারী প্রধান ডাকঘরসহ উপজেলা পর্যায়ের ডাকঘরগুলোতে এ সেবা চালু হয়েছে। সাধারণ ডকুমেন্ট, সঞ্চয় ব্যাংক, জিইপি ও রেজিস্ট্রি সেবার পাশাপাশি নতুন এ সেবায় গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছে ডাক বিভাগ। 
নীলফামারী প্রধান ডাকঘর সূত্র জানায়, জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০৯টি পার্সেল পাঠানো হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২২ হাজার ৫৩৬ টাকা। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ২৯৭টি পার্সেল গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নীলফামারী প্রধান ডাকঘরে মালামাল পাঠাতে আসেন নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা চিকিৎসক সুমাইয়া সুলতানা। তিনি জানান, পড়াশোনা শেষ হওয়ায় আসবাব, বইপত্রসহ ১৭৩ কেজি মালামাল মৌলভীবাজারে পাঠাচ্ছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। একই মালামাল কুরিয়ারে পাঠাতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হতো বলে জানান তিনি। 
ডাকঘর সূত্র জানায়, স্পিড পোস্টে প্রথম কেজির জন্য ১১ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা হারে চার্জ নেয়া হয়। নীলফামারী থেকে বিকেল ও রাতে বুকিং হওয়া মালামাল পার্বতীপুরে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে রাষ্ট্রীয় ডাক ব্যবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তিতুমীর এক্সপ্রেস ও রূপসা এক্সপ্রেসে পার্বতীপুরে এসব মালামাল পাঠানো হয়।
সেবাগ্রহীতা শিার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকারি ব্যবস্থায় কম খরচে নিরাপদে পার্সেল পাঠানো যাচ্ছে। এ কারণে তিনি সেবাটি নিয়ে সন্তুষ্ট। নীলফামারী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো: শামসুজ্জোহা বলেন, সপ্তাহের সাত দিনই সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে নিজস্ব গাড়ি না থাকায় পার্বতীপুরে গিয়ে ডাক আনা-নেয়া করতে হয়। নিজস্ব পরিবহন থাকলে বিভিন্ন উপজেলায় সরাসরি পার্সেল পৌঁছে দেয়া সম্ভব হতো।
ডাকঘর সূত্র আরো জানায়, গত তিন মাসে ১২ হাজার ৮৭টি ডকুমেন্ট বুকিং হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে এক লাখ ৩২ হাজার ২২ টাকা। এর মধ্যে রেজিস্ট্রি চিঠি ছিল ১১ হাজার ৬০৫টি।

Advertisement