ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ঐতিহাসিক বিজয় : আইআরজিসি
ইরাকে আইএসআইএল (আইসিস)-বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বাগদাদে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থকদের আনন্দ মিছিল : ইন্টারনেট।

আল জাজিরা
ইরাকের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপসারণকে একটি ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর পাশাপাশি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটনের সব সামরিক অবস্থান সম্পূর্ণ গুটিয়ে নেয়ার তাগিদ দিয়েছে শক্তিশালী এই সামরিক সংস্থাটি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ‘আইএসএনএ’-তে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে আইআরজিসি নিজেদের এই অবস্থানের কথা প্রকাশ করে।
প্রকাশিত বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতিই সার্বিক অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে গোটা এলাকার শান্তি ও সুরার স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির স্থায়ী সমাপ্তি টানা জরুরি। ইরানি সামরিক বাহিনীর এই প্রভাবশালী শাখাটি জোর দিয়ে জানায়, অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব এখানকার স্বাধীন সার্বভৌম দেশগুলোর হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত দুই দশকের দীর্ঘ দখলদারিত্বের ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান সীমান্ত কিংবা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি; উল্টো তারা নিজেই এই এলাকায় বিশৃঙ্খলা, উগ্রবাদ ও নৈরাজ্যের প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপ নিয়েছিল।
ইরাকে দুই দশকব্যাপী পরিচালিত মার্কিন অভিযান ও সেনাদখলের কারণে হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ও মানবিক য়তির কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, দুই দশকের ব্যর্থ সামরিক অভিযানের পর চূড়ান্ত পরাজয়, অপমান এবং ইরাকি জনগণের প্রবল প্রতিবাদের মুখে মার্কিন বাহিনীকে পিছু হঠতে বাধ্য হতে হয়েছে। আইআরজিসি আরো উল্লেখ করে, ওয়াশিংটনের নিজস্ব স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই দীর্ঘ সময়ে তাদের অন্তত পাঁচ হাজার সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছিল, যদিও প্রকৃত মৃত্যুর পরিসংখ্যান এর চেয়ে বহুগুণ বেশি এবং প্রায় চার ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বিরাট আর্থিক তি সাধিত হয়েছে।

Advertisement