
নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু সদস্যদের গ্রেফতার নয়, এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ক্ষেত্রে শর্টকাট সমাধান করলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাওরান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কিশোর গ্যাং নির্মূল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেফতার করলে গ্রুপগুলো দুর্বল হয়ে যায়। তাদের গ্রেফতার করা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কৌশলের অংশ।
তিনি বলেন, শর্টকাট সলিউশন চাইলে, এটা ভুল হবে। এ ধরনের গ্রুপ যেন ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম যেন বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে।
এসআরবি-২-এর অধিনায়ক আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল কাজ করছে। খুব শিগগির এসব অপরাধী গ্রুপের কার্যক্রমের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে আরো বিস্তৃতভাবে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেয়া হবে।
এ দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় পাটালী গ্রুপের ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি এবং আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-২। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার ভাড়াবাসায় অভিযান চালিয়ে আরো চারটি সামুরাই এবং মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-২-এর অধিনায়ক বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং চাপাতি দিয়ে পাটালী গ্রুপের ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত ফরহাদের মা নাছিমা বেগম বাদি হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার তিন নম্বর আসামি আরমান মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় আরমানের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত সামুরাই উদ্ধার করা হয়। পরে তার ভাড়াবাসায় তল্লাশি চালিয়ে চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। এরপর আরমানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
আরমান-শাহরুখ গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গত ১৬ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আরমানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এতদিন আরমান কোথায় ছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে নায়মুল হাসান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকলেও আরমান ঢাকাতেই ছিল। আশপাশেই অবস্থান করছিল। তাকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় সাব্বির ও সোহেলসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি এর আগে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন।









