
রাশিদুল ইসলাম
সাইবার সুরক্ষা সংশোধনী আইনকে আদতে দেশে দমনমূলকভাবে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণকে পুনরুজ্জীবনের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সাইবার নিরাপত্তা আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আইনজীবী, ডিজিটাল অধিকারকর্মী এবং অভিযুক্ত বা মামলার বাদি সবাই তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ একটি লাগামহীন সেন্সরশিপ ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে এনে অর্জিত গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে উল্টে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। বাংলাদেশকে অবশ্যই সাংবিধানিক স্বাধীনতার সাথে আপস না করে ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষিত রেখে, প্রযুক্তিগত সাইবার নিরাপত্তাকে জনমতের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।
কোনো ভীতি সঞ্চার করছে এ আইন
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ফৌজদারি মানহানি এবং ‘অপমান’ ও ‘ধমক’ দেয়ার মতো ব্যক্তিগত অপরাধ আবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘যাচাইবিহীন তথ্য’ প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা জরিমানার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। জনসমক্ষে প্রকাশ ছাড়াই শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক করার জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে অবাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। পরিচালনা পরিষদ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা ব্যাপক দায়মুক্তি পেয়েছেন। খসড়াটি সরাসরি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের শ্রেয়া সিংঘল মামলার নজির এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সরকার সংশোধনের নামে নতুন নামকরণের অধীনে আগের আইনের সবচেয়ে দমনমূলক বিধানগুলোকে পদ্ধতিগতভাবে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
ডিএসএ ছিল কুখ্যাত
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন ২০০৬-এর কুখ্যাত ৫৭ নম্বর ধারার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরসূরি। অক্টোবর ২০১৮ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে, ডিএসএর অধীনে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ব্যক্তি বিচারিক হয়রানি এবং নির্বিচার গ্রেফতারের শিকার হন। অভিযুক্তদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন সাংবাদিক। ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি’ এবং ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’সংক্রান্ত অস্পষ্ট আইনি বিধানগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বৈধ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দমনের ক্ষেত্রে অবাধ ও স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রদান করেছে।
এই আইনটি সেলফ-সেন্সরশিপের একটি ব্যাপক পরিবেশ তৈরি করে, যা নাগরিকদের জনজীবনে অংশগ্রহণের পদ্ধতিকে বদলে দেয়। ক্লুনি ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিসের ট্রায়াল ওয়াচ ইনিশিয়েটিভ এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) পরিচালিত একটি আইনি সমীক্ষায় ৩৯৬ জন সাংবাদিকের ২২২টি মামলা বিশ্লেষণে দেখা গেছে রাজনৈতিক অভিজাতরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে স্তব্ধ করার জন্য এই আইনটির ব্যাপক অপব্যবহার করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়মিতভাবে বিনা ওয়ারেন্টে আটক করা হতো, দীর্ঘ বিচার-পূর্ব কারাবাসে রাখা হতো এবং হেফাজতে নির্যাতন করা হতো। প্রখ্যাত ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলম জনসমক্ষে মন্তব্য করার জন্য ২০১৮ সালে ৫৭ ধারার অধীনে ১০৮ দিন হেফাজতে কাটান। আঞ্চলিক জেলাগুলোর সাংবাদিকরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে অনির্দিষ্টকালের কারাবাস এবং কর্মজীবনে ধ্বংসের সম্মুখীন হতেন। ডিএসএ-এর মর্মান্তিক শিকার লেখক ও ভাষ্যকার মুশতাক আহমেদ সামাজিক মাধ্যমে মহামারী মোকাবেলার সরকারের সমালোচনার জন্য ২০২০ সালের মে মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর তার জামিন আবেদন ছয়বার নামঞ্জুর হয়। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে হেফাজতে তিনি মারা যান। তার সহ-অভিযুক্ত, রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ব্যাপক আন্তর্জাতিক ক্ষোভের মুখে জামিনে মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে হেফাজতে থাকাকালীন গুরুতর নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সাক্ষ্য দেন, তিনি স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারান এবং শারীরিক আঘাত পান।
টার্গেট যখন মিডিয়া
যাচাইবিহীন ব্রেকিং নিউজ প্রকাশের দায়ে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকায় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষণশীল অবস্থান নিতে এবং ব্যাপক মাত্রায় সেলফ-সেন্সরশিপ চর্চা করতে বাধ্য হবে। ‘অপমান’-এর অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে সৃজনশীল প্রকাশভঙ্গি, রাজনৈতিক ভিন্নমত এবং সাহিত্যিক ব্যঙ্গ-রচনার ওপর অনিবার্যভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাষ্ট্রীয় অপব্যবহার বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধকারী মানবাধিকার কর্মীরা ‘গুজব-বিরোধী’ বিধানের আওতায় আইনি হয়রানির ঝুঁকিতে পড়বেন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন।
আইনজীবীদেরও স্পষ্ট ধারণা নেই
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অ্যাডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, অস্বচ্ছ ধারণা এ আইন অপপ্রয়োগের সুযোগ দেবে। দুই-চারজন পেশাজীবী বা বিশেষজ্ঞের সাথে বসে আলোচনার পরিবর্তে গণমুখী ব্যাপক অভিমত সংগ্রহে ওয়েবসাইটে আইনটি যাচাইয়ের সুযোগ দরকার। কোনটা সাইবার সিকিউরিটি আর কোনটা অধিকার- সে সম্পর্কে আইনে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। কোনটা সাইবার সিকিউরিটি আর কোনটা ফ্রিডম অব স্পিচ- এই ডিস্টিংশনটা করতে পারছি না কারণ রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও শত শত মামলা হচ্ছে। সাইবার সিকিউরিটি আইনের অপব্যবহার যেন না হয়। সরকার, নাগরিক, কোনো গোষ্ঠী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হোক সবারই স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত। বিভিন্ন আইনের ড্রাফটিংয়ের সাথে যুক্ত থেকেও আমি সাইবার আইন সম্পর্কে বুঝি না, মিডিয়াও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কারণ এ আইন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে কোনো স্বচ্ছ ধারণা নাই। একটা উদ্বেগ কাজ করছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সামথিং ডিফারেন্ট। আশি বা নব্বইয়ের দশকে সাংবাদিকরা ফাইলপত্র কপি করে নিয়ে আসতেন। এখন এগুলো সাইবার সিকিউরিটির অধীনে চলে গেলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হবে কিভাবে? কারো বিরুদ্ধে সংবাদ করলে মামলা হলে তো সাংবাদিককে গ্রেফতার হতে হবে, না হয় দৌড়ের ওপর থাকতে হবে। আইন না হলে সমাজ বাঁচবে না; কিন্তু সেটা কি নিয়ন্ত্রণের জন্য কারো বিরুদ্ধে বা বেনিফিসিয়ারি কে হচ্ছে- সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
‘উই আর গোয়িং ব্যাক’
অনলাইন উদ্যোক্তা ও অধিকারকর্মী ফাইম মাসরুর নয়া দিগন্তকে বলেন, বাকস্বাধীনতাকে ফের রুদ্ধ করবার জন্যই এ ধরনের আইন করা হচ্ছে। সংশোধনের এ উদ্যোগে আমরা হাসিনার আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি বা আইসিটি অ্যাক্টে চলে যাবো। স্যোশাল মিডিয়ায় কমেন্ট করলে কারো মানহানি হয়েছে এমন মনে হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে- এটি মিডিয়ার ওপর সিকিউরিটি আঘাত। মিডিয়াকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ যখন তখন মামলা দেবে, গ্রেফতার করবে। জুলাই আন্দোলনের পর যে বাকস্বাধীনতা পেয়েছিলাম তা থাকবে না, অবকোর্স আশঙ্কা আছে। এটা সরাসরি বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত হানবে। সবদেশেই সরকারের সমালোচনা হয়, এখন সন্ত্রাস বা অন্য আইন দিয়ে কাউকে আটক করা হচ্ছে; কিন্তু সাইবার আইনটা যদি এভাবেই হয় তাহলে এ আইন দিয়েই পুলিশ কাউকে অ্যারেস্ট করবে। আসলে ‘উই আর গোয়িং ব্যাক’। গণতন্ত্রের পথ চলাটা আর মসৃণ হলো না।
অভিযুক্ত বা মামলার বাদি
ডিএসএ ভিকটিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন এবং ভিকটিমদের পক্ষে কাজ করছেন। নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, আইনটি মোডিফাইড হয়ে গত এপ্রিলেই পাস হলো সংসদে, এখন আবার সংশোধনের উদ্যোগ দেখে মনে হচ্ছে সরকার নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অ্যাক্টিভিস্টসহ বিভিন্ন কারণে। সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কর্তৃত্ব আনতে চাচ্ছে। মানহানি, অপতথ্য, গুজবের মতো বিষয়গুলো নতুন আইনে যুক্ত হলেও ডিফাইন করা হয়নি। যে কেউ কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এনে হয়রানি করতে পারে। আবার দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে, মানহানির কথা বলে কেউ কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এক দিন, দুই দিন বা ১০ দিন পর ছেড়ে দিলে এমন ঘটনার কোনো বিচার করা যাবে না, কারণ দায়মুক্তি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সরল বিশ্বাসে কাউকে তুলে আনে তাকে কিছু বলা যাবে না। তারপর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নারী নির্যাতন ছাড়া অন্য ব্যাপারগুলো ডিল করতে পারবে। এখন টাকা দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কেউ কাউকে হয়রানি বা তুলে নিয়ে যেতে পারে। মোবাইল কোর্টের কি ক্যাপাবিলিটি আছে কোনটা হ্যাকিং কোনটা হ্যাকিং না, কোনটা কোন ধরনের অপরাধ- সেটি জাজ করার। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেল এ ধরনের বড় বড় ক্রাইম প্রতিরোধে কিন্তু সাইবার অ্যাক্ট. করা হচ্ছে না, করা হচ্ছে কেউ কথা বললে প্রয়োজন মনে করলে সাথে সাথে যেন তুলে নিয়ে যেতে পারে।
সবাই চান কার্যকর সাইবার আইন
জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, এমন আইন চাই যাতে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস না হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে গেজেটে সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা সব দিয়ে দিয়েছে। এখানে ঠিকানা ব্লার করে দেয়া উচিত ছিল। আমরা চাই সাইবার সিকিউরিটি কাজ করুক কারণ আচরণবিধি কেউ লঙ্ঘন করলে বা যে ই-মেইল অ্যাড্রেস ও আইপি থেকে সে রেজিস্ট্রেশন করেছে তা বাতিল করে দেয়া যায়। যাতে আইপি অ্যাড্রেস থেকে অন্য একটা ই-মেইল খুলে আরেকটা আইডি খুলতে না পারে। এ জন্য কাউকে তুলে আনার দরকার নেই, পেজ থেকে তাকে হাওয়া করে দিলেই যথেষ্ট। তিনি বলেন, ফেসবুক গ্রুপের সাহায্যে নারীকে অবমাননা করা হচ্ছে এবং এগুলো পাবলিক গ্রুপ হওয়ায় যে কেউ এ ধরনের পেজে যেয়ে তা দেখতে পাচ্ছে। অসংলগ্ন মুহূর্তের ছবি তুলে অপব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের অপকর্মগুলো বন্ধে কার্যকর সাইবার আইন চাই। কিন্তু সেই আইন যারা কার্যকর করবে তারা যেন সৎ থাকে, পদবি ও ক্ষমতার অসততার কাছে বিকিয়ে না দেয়।
চরম উদ্বেগে সুশীল সমাজ
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় আরো সংশোধনী আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। অপপ্রয়োগের শঙ্কায় গণমাধ্যমের সুরক্ষায় তারা গণমাধ্যম কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। সচিবালয়ে গতকাল সোমবার আইনটি নিয়ে দ্বিতীয় পরামর্শ সভায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সংশোধনী ছাড়া যদি এ আইন পাস হয়, তাহলে বাংলাদেশ বৃহৎ কারাগারে পরিণত হবে।’ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমলারা এ আইন লিখে দিয়েছে। কোনো রাজনৈতিক সরকার এ আইন করতে পারে না। কোনো কোম্পানির লাইসেন্স বা নিবন্ধন বাতিল করার ধারা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা কি করে সম্ভব, পুরোটাই অযৌক্তিক। এটা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, আইনের ব্যত্যয় হবে সাধারণ আইনে। একটা ব্যক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে- এটি হতেই পারে না। আমরা যে এই আইনের ভিক্টিম হবো না- তার গ্যারান্টি কী। কোভিডের সময় আমাকে ছয়বার আদালতে যেতে হয়েছে। এই আইনের বিষয়ে আমার কনসার্ন যেটা, সেটি হলো- ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে সাংবাদিকদের বিচার ও অ্যারেস্ট করাবেন না। এ সময় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, এই আইনের খসড়া দেখে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। যদি এই আইন গ্রহণ করা হয়, তাহলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার এক নিবন্ধে লিখেছেন মতপ্রকাশকে সীমিত করতে এ আইন সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধনীগুলো আইনে পরিণত হলে তা ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের মতোই ভয়াবহ রূপ নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল আইন ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের মধ্যে দিয়ে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, ‘নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, সেগুলোর সুরক্ষা এবং বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’









