
আহসানুল হক জুয়েল নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলী উপজেলায় পানিতে পড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদলের অভাব। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় দুর্ঘটনার পর ভৈরব, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ডুবুরিদল আসার অপেক্ষা করতে হয়। এতে উদ্ধার অভিযান শুরু করতে বিলম্ব হয়। বর্ষা মৌসুমে হাওর ও নদীতে পর্যটকদের আনাগোনা এবং নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। এ অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে নিকলী ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরিদল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার মধ্যে নিকলী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাওর উপজেলা। জেলার চারটি হাওর উপজেলা নিকলী, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনার মধ্যে এখানে রয়েছে বেশ জাঁকজমক পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলাভূমি, নদী ও হাওর ঘিরে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা আবর্তিত হয়। বোরো মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকলেও বর্ষায় অনেক কৃষক মাছ ধরার কাজে যুক্ত হন। পাশাপাশি পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে এলাকাটি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাওর ও নদীবেষ্টিত এ উপজেলায় প্রতি বছরই পানিতে পড়ে অনেক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বর্ষায় নৌযাত্রা, মাছ ধরা ও পর্যটনকেন্দ্রিক লোক সমাগমে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। এ সময় পানিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ডুবুরিদলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিকলী ফায়ার সার্ভিসে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরি না থাকায় অন্য এলাকা থেকে উদ্ধারকারী ডুবুরিদল আসার ওপর নির্ভর করতে হয়। দুর্ঘটনাস্থলে তাদের পৌঁছাতে বেশ সময় লেগে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। পানিতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে নিকলীসহ কিশোরগঞ্জের অন্যান্য হাওর উপজেলায় কয়েকজন পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পানিতে ডুবে নিহতদের উদ্ধারে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের প্রশ্ন, হাওর ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নিকলীতে পর্যাপ্ত ডুবুরিদল কেন থাকবে না। দুর্ঘটনার পর দূরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধারকারী দলের আসার অপেক্ষা কেন করতে হবে, ইত্যাদি। স্থানীয় পর্যায়ে ডুবুরি-সক্ষমতা বাড়ানো গেলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের দাবি, নিকলীর ভৌগোলিক বাস্তবতা ও পানিকেন্দ্রিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরি নিয়োগ, জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক উদ্ধার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তাও জোরদার হবে।
এ দিকে নিকলী ফায়ার স্টেশনের সহকারী ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি এর উত্তর দিতে পারব না। আপনি মেহেরবানি করে আমার জেলা অফিসে যোগাযোগ করে তথ্য নিন।’
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলী ছাড়াও ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। তবে এসব স্টেশনেও জনবল, ডুবুরিদল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সঙ্কট রয়েছে বলে জানা গেছে।








