পুলিশ অফিসার্স সমিতির কমিটি ও ফ্ল্যাট নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
বিসিএস পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির কমিটি গঠন ও সদস্যদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন সমিতির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাইয়েদুল ইসলাম মৃধা। অভিযোগে পুলিশের সাবেক ও বর্তমান মিলে বেশ কয়েকজন আইজিপিসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে হাসিনা আমলের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আইজিপি বেনজীরের নামও রয়েছে। 
পুলিশের সাবেক ওই কর্মকর্তা সাইয়েদুল ইসলাম বলেন, তিনি পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির একজন সদস্য। ২০২৫ সালের ২৩ মে সমিতির এজিএম ঢাকার পুলিশ অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। এজিএমের যে চিঠি সদস্যদেরকে দেয়া হয় তাতে ওইদিন নির্বাচনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ ছিল না। অনুষ্ঠান শেষে রাতে নৈশভোজের সময় হঠাৎ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়। দু’টি প্যানেল ঘোষণা করা হলেও কোন রকম নির্বাচন ছাড়াই বখতিয়ার আলমের প্যানেলকে জয়যুক্ত ঘোষণা করা হয়। এই নির্বাচনের প্রতিবাদ করা হলে মন্ত্রণালয় ও সমবায় অধিদফতরের পক্ষ থেকে তদন্ত করে উক্ত কমিটি বাতিল করা হয় এবং একটি এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এডহক কমিটি গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
এক সময় সমিতির তৃতীয় তলায় শুক্রবারে নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির কক্ষ ও সমিতির সভাকক্ষ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জমি ক্রয় ও ফ্ল্যাট নির্মাণেও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ১৫ বিঘা জমিতে ২০০০ বর্গফুটের ২৪০টি ফ্ল্যাট দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল আলম, খোদা বক্স চৌধুরী , মো: ইকবাল বাহার এবং বখতিয়ার হোসেনসহ অন্যদের যোগসাজসে জমির পরিমাণ ১৫ বিঘার স্থলে সাড়ে তের বিঘা এবং ফ্ল্যাটের আয়তন ২০০০ বর্গফুটের স্থলে ১৯১৩ বর্গফুট কিভাবে হলো তা নিয়েও অভিযোগ করেন সাবেক ওই পুলিশ কর্মকর্তা। 
এসব দুর্নীতি ও অবৈধ কমিটি গঠনের ব্যাপারে আরো যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহম্মেদ, পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন, ইকবাল বাহার, মো: সাজ্জাত হোসেন, ওয়ালিয়ার রহমান, আব্দুল মান্নান, বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকির, সাবেক পুলিশ সুপার মতিউর রহমান, এম আকবর আলী, সৈয়দ আহমুদ আহম্মদ রুমী, জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মতিয়ার রহমান এবং অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান এবং ডিআইজি তাপতুন নাসরিন। 
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণে দুর্নীতির কারণে সমিতির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রথম প্রজেক্টের ওপর ৬টি ভবন এখনো পড়ে আছে। বুয়েট টেস্টে পিলারের নিচে কাদা পাওয়ায় ওই প্রজেক্ট বাতিল করা হয়েছে। এতেও সমিতির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

Advertisement