
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের সুরক্ষা, রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় জরুরি নীতিসহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। একই সাথে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য কটন সুতা আমদানি নিরুৎসাহিত করা, নন-বন্ডেড শিল্পে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ এবং শুল্ক-কর ও জ্বালানিসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল প্রতিযোগিতামূলক নীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব দাবি তুলে ধরেন বিটিএমএর ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল। সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎকালে বিটিএমএ সভাপতি দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প খাতে, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রফতানি সক্ষমতা সুরক্ষায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের নেয়া উদ্যোগের জন্য তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিটিএমএর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের আদেশ অনুযায়ী এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতাধীন ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত রফতানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা প্রয়োজন।
সংগঠনটির দাবি, এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য কটন সুতা আমদানির পরিমাণ কমবে। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানিকৃত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
বিটিএমএ আরো দাবি করেছে, নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল করতে হবে। একই সাথে এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখতে সব রফতানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমন্বিত টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে বিটিএমএ। তাদের মতে, এ নীতিতে শুল্ক, কর, জ্বালানি, অর্থায়ন, রফতানি সহায়তাসহ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে উন্নতি হয়েছে তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে গ্যাসের সরবরাহের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি, যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা আরো জোরদারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিটিএমএর প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রপতি গুরুত্ব ও মনোযোগ দিয়ে শোনেন। দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি। একই সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী এবং প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
বিটিএমএর পক্ষে সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: শামীম ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম সরকারসহ সাবেক সহ-সভাপতি, বর্তমান ও সাবেক পরিচালক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








