ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাথে অতিথিরা। নয়া দিগন্ত

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। 
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন শেষ হয় রাত ৮টায়। এতে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় দুই হাজার শিশুকিশোর, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ী অংশ নেন। উৎসবে ১১টি বিভাগে মোট ২৬৭টি পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Advertisement

সকালের ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়নুল আবেদীন আজাদ উৎসবের উদ্বোধন করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।

তিনি বলেন, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে ৫২ বছর ধরে কাজ করে যাওয়া অসাধারণ অর্জন। ফুলকুঁড়ির সদস্যদের উদ্দেশে তিনি সংগঠনের সাফল্যের পেছনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের কখনো ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান। স্বেচ্ছাসেবার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সংগঠনটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ চেতনা দেশের সব শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, শিশুদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে ফুলকুঁড়ি আসরকে সচেতন উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের নেতৃত্ব গঠনে সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জ্ঞানার্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। 
তিনি আরো বলেন, মেয়েশিশুদের যথাযথ যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত না হলে জাতির অগ্রগতি ব্যাহত হবে।

অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, দেশপ্রেমিক ও সৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ফুলকুঁড়ি আসর কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইন এবং রাজশাহী জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট ও ফুলকুঁড়ি আসরের রাজশাহী মহানগরীর উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মজিজুল হক। এ ছাড়া সংগঠনের প্রধান পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রধান পরিচালক আশরাফুল ইসলাম এবং সাবেক প্রধান পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতা ও কর্মসূচির মধ্যে ছিল মাইন্ড ম্যারাথন সিজন-৩, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ১১তম জাতীয় শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, বৃক্ষরোপণ প্রতিযোগিতা, ভিডিও ছড়াপাঠ প্রতিযোগিতা, ১০ম জাতীয় দেয়ালিকা উৎসব, অগ্রপথিক ব্যাজ প্রদান ও স্মৃতিলেখন প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজনসহ মোট ১১টি বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

সাংস্কৃতিক পর্বে গান, কবিতা আবৃত্তি, পরিবেশবান্ধব কোরিওগ্রাফি, থিম সং, নাটিকা ও পাপেট শো পরিবেশিত হয়। শিশুকিশোরদের জন্য নির্মিত মঞ্চনাটক ‘বন্দী খাঁচার পাখিরা’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

অতিথিরা ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২ বছরের অর্জনের প্রশংসা করেন এবং সংগঠনটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

১৯৭৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে ফুলকুঁড়ি আসর আত্মপ্রকাশ করে। শিশুকিশোরদের নির্মল চরিত্র, সুন্দর মন ও সুস্থ দেহের অধিকারী করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি নিজস্ব পাঁচটি বিভাগের মাধ্যমে দেশজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।