
রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা রক্ষার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ডিজিটাল সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির সাথে অপরাধের ধরন ও মাত্রায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। প্রথাগত অপরাধের স্থান দখল করেছে সাইবার ক্রাইম, ভিওআইপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি, ডিজিটাল হুন্ডি, সংবেদনশীল তথ্য পাচার ও আন্তর্জাতিক প্রতারণা। একটি মোবাইল ফোন আজ আর কেবল কথা বলার যন্ত্র নয়; এটি একজন মানুষের পরিচয়, আর্থিক লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগ, অবস্থান, কর্মক্ষেত্র এমনকি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। ফলে মোবাইল ফোন বৈধ না অবৈধ, তার আইএমইআই (IMEI) নম্বর সঠিক কি না, সেটি কার সিমের সাথে ব্যবহৃত হচ্ছে— এসব তথ্য এখন আর নিছক প্রশাসনিক বিষয় নয়; এগুলো সরাসরি আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই বাস্তবতায় National Equipment Identity Register বা NEIR কোনো বিলাসী প্রকল্প নয়; বরং এটি একটি অপরিহার্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো।
তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক ভয়ঙ্কর সব অপরাধ রুখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো— ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি আফ্রিকার অনেক অনুন্নত দেশও বহু আগেই এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করেছে। আমাদের নিকট প্রতিবেশী দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাতেও কয়েক বছর আগেই এটি কার্যকর করা হয়েছে। সেখানে অনিবন্ধিত বা অবৈধ হ্যান্ডসেট দিয়ে অপরাধ করার কিংবা তথ্য পাচারের সুযোগ প্রায় শূন্য। বাংলাদেশে এনইআইআর ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার পরও আজ পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে দেয়া হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারটি স্থবির করে রাখার খেসারত দিচ্ছে পুরো দেশ। অনিবন্ধিত ও অবৈধ মোবাইল ফোনের ওপর ভিত্তি করে অপরাধীরা গড়ে তুলেছে সমান্তরাল এক অপরাধ সাম্রাজ্য, যার সামনে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যত অসহায় হয়ে পড়ছে।
বিটিআরসির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ জুলাই প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা NEIR-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনাটি ছিল মোবাইল হ্যান্ডসেটের IMEI-কে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যবহৃত সিমের সাথে সম্পৃক্ত করা। কিন্তু প্রযুক্তিটি কেনার পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তৎকালীন ফ্যাসিবাদের অশুভ হস্তক্ষেপে তা স্তব্ধ করে রাখা হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে ও নথিপত্রে উঠে এসেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে এটি আটকে রাখা হয়েছিল। বলা হয়, কালোবাজারি ও অবৈধ হ্যান্ডসেট সিন্ডিকেটের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ই ছিল এর উদ্দেশ্য। এমনকি এনইআইআর-সংক্রান্ত বিটিআরসির একটি বৈঠকে যখন প্রেষণে কর্মরত সেনাবাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এনইআইআর চালুর গুরুত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন, তখন আইসিটি উপদেষ্টা চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘এ বিষয়ে আর একটি কথাও শুনতে চাই না।’ জাতীয় নিরাপত্তাকে এভাবে ব্যক্তিস্বার্থ ও রাজনৈতিক দুর্নীতির কাছে বন্ধক রেখে অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধ বিস্তারের পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।
আজকের দিনে অপরাধীরা শুধু প্রচলিত কৌশল ব্যবহার করছে না; তারা প্রযুক্তিকে অপরাধের প্রধান অস্ত্র বানিয়েছে। প্রতারণা, ফিশিং, পরিচয় জালিয়াতি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, অনলাইন জুয়া, অবৈধ ভিওআইপি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজিতে মোবাইল ডিভাইস প্রধান ভূমিকা রাখছে।
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকা থেকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রতারণাচক্রের ৬৩ জন বিদেশী নাগরিককে গ্রেফতার এবং রাজধানীর বসুন্ধরায় ডিবির অভিযানে চীনা নাগরিকদের পরিচালিত অনলাইন জুয়ার সাম্রাজ্য উদ্ঘাটন— এসবই প্রযুক্তিনির্ভর ভয়ঙ্কর অপরাধের প্রমাণ। খুলশীতে লাওস, পাকিস্তান, চীন, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা পাসপোর্ট ছাড়াই ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দেশীয় চক্রের সহায়তায় অনলাইন প্রতারণা চালাচ্ছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩৪টি মুঠোফোনসহ বিপুল ডিভাইস। অন্য দিকে, বসুন্ধরায় উদ্ধার হয় ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, ২০টি গেটওয়ে মেশিন ও ছয় হাজারের বেশি অ্যাক্টিভ সিমকার্ড। এই দুর্ধর্ষ অপরাধীরা একটি মোবাইলের সাথে বাহ্যিক একাধিক স্লট যুক্ত করে একসাথে ১২টি সিম পরিচালনা করত, যাতে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও প্রযুক্তির জটিলতায় IMEI নম্বর শনাক্ত করা না যায়। একটিমাত্র গেটওয়ে ব্যবহার করে তারা প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত।
আমাদের সামনে এখন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলো বাংলাদেশে ঘাঁটি গাড়ছে। চট্টগ্রামের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যেও উঠে এসেছে যে, অপরাধীরা বাংলাদেশকে সুবিধাজনক আশ্রয়স্থল মনে করছে। এটি রাষ্ট্রের জন্য চরম সতর্কবার্তা।
এর চেয়েও মারাত্মক ও উদ্বেগের বিষয় হলো— সরকারের ভেতরেই এখন সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের ফোনালাপের অডিও ক্লিপটি এর জ্বলন্ত উদাহরণ। ওসি রাকিবুল হাসানের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ। অন্য দিকে গুলশানে আওয়ামী লীগের যে মিছিল নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, সেটির পেছনেও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
এখানে স্পষ্ট করে বলা দরকার, এই ওসির মতো অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং সিভিল ও সামরিক কর্মকর্তা এখনো প্রশাসনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় দায়িত্বরত আছেন। তাদের ট্র্যাক রেকর্ড ও কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, তারা পতিত স্বৈরাচারের কতটা বিশ্বস্ত দোসর ছিল। তারা এখনো রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। অত্যন্ত গোপনীয় এবং সংবেদনশীল নথিপত্র, চিঠির কপি ও রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর খবর দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশের আগে কিংবা কোনো সাংবাদিক জানার আগেই বিদেশে অবস্থানরত ফ্যাসিস্টের অনুসারী কথিত সাংবাদিক, ইউটিউবার এবং আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। অথচ বর্তমান সরকার কেন চোখ বুজে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, তা এক বিশাল রহস্য!
যেখানে পুলিশ বাহিনীতে অপেক্ষাকৃত সৎ, যোগ্য ও পেশাদার কর্মকর্তাদের নানা অজুহাতে ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে, সেখানে এই ধরনের ফ্যাসিবাদের সরাসরি দোসররা কিভাবে বহাল তবিয়তে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে থাকে? যারা অনিবন্ধিত ও ট্রেস-না-করা স্মার্ট মোবাইল এবং ভুয়া সিম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করছে এবং স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করছে, তাদের বহাল রাখা সরকারের জন্য যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে— যদি এনইআইআর পূর্ণাঙ্গ ও কঠোরভাবে চালু থাকত, তবে কি এই আমলা বা পুলিশ কর্মকর্তারা অনিবন্ধিত ফোন ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা কিংবা গোপন তথ্য পাচার করার সাহস পেত? কখনোই না। কারণ এনইআইআর চালুর মূল কাজ তিনটি তালিকার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয় :
১. সাদা তালিকা (White List) : অনুমোদিত, বৈধ ও ট্যাক্স দেয়া নিবন্ধিত ফোন।
২. ধূসর তালিকা (Grey List) : নির্দিষ্ট সময় বা শর্তসাপেক্ষে নিবন্ধনের সুযোগপ্রাপ্ত ফোন।
৩. কালো তালিকা (Black List) : চুরি করা, অবৈধ, ক্লোনড বা অপরাধে ব্যবহৃত ফোন, যা সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
এনইআইআর কার্যকর থাকলে প্রতিটি ডিভাইসের আইএমইআই এবং ব্যবহৃত সিমের সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল পরিচয় রাষ্ট্রের নজরদারিতে থাকত। কোন ডিভাইস থেকে বা কোন লোকেশন থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কথোপকথন কিংবা তথ্য পাচার হচ্ছে, তা মুহূর্তের মধ্যেই চিহ্নিত করে ওই ডিভাইস ব্লক ও অপরাধীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হতো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এনইআইআর এক অপরিহার্য প্রযুক্তিগত অস্ত্র। বিটিআরসি ঘোষণা দিয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে NEIR পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়েছে এবং নেটওয়ার্কে সচল ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, NEIR কি শুধু কাগজে পূর্ণাঙ্গ, নাকি বাস্তবেই চালু হয়েছে?
সিস্টেম চালুর ঘোষণা আর মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ এক বিষয় নয়। যদি অবৈধ IMEI শনাক্ত হওয়ার পরও তা নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকে, ক্লোনড IMEI বা অবৈধ ডিভাইসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে NEIR তার কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ভূমিকা রাখতে পারবে না। রাষ্ট্রকে তাই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে— সঠিক ডিভাইস শনাক্তকরণ, দ্রুত তথ্য বিনিময় এবং দ্রুত প্রয়োগ।
বর্তমান সরকারের সামনে তাই বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, NEIR তার একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্র। শুধু বিটিআরসির প্রশাসনিক প্রকল্প হিসেবে না দেখে বিটিআরসি, পুলিশ, সাইবার ক্রাইম ইউনিট, সিআইডি, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত যদি এনইআইআরের তথ্যের সাথে যুক্ত করা যায়, তবে যেকোনো ডিভাইস অপরাধ ও চক্রান্তের ডিজিটাল সূত্রে পরিণত হবে।
সুতরাং সরকারকে এখন স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, NEIR বাস্তবে কতটা কার্যকর, কতটি অবৈধ ও ক্লোনড IMEI ডিভাইস ব্লক করা হয়েছে এবং তথ্য পাচারকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও অবৈধ আমদানির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কারণ অবৈধ মোবাইল ফোনের ‘গ্রে মার্কেট’ কেবল সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিতই করছে না, এর আড়ালে সোনা ও মাদকের মতো অবৈধ পণ্য পাচার হচ্ছে এবং দেশের ভেতরের শত্রুদের রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, সরকারের স্থিতি, অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে এনইআইআরের পূর্ণাঙ্গ ও শতভাগ কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। প্রযুক্তির যুগে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা শুধু সীমান্তে পাহারা দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না; নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় মানুষের হাতের স্মার্টফোন থেকেও। সুতরাং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং প্রশাসনের ভেতরের ষড়যন্ত্রী দোসরদের ফাঁদ গুটিয়ে আনতে রাষ্ট্রকে এখনই এই প্রযুক্তির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অন্যথায় অপরিমেয় মাশুল গুনতে হতে পারে।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট
ahabibhme@gmail.com
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








