
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও গুজবের বিস্তার ঠেকাতে একটি সুসংগত ও কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে তা যেন কোনোভাবেই মূলধারার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যাহত না করে, সে বিষয়টি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে অপতথ্য মোকাবিলায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের নিয়মিত তথ্য যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট চেক’ ভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ডিআরইউর নতুন সদস্য বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে নিয়মশৃঙ্খলা এবং নীতি-নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সরকারের আইনি দায়িত্ব রয়েছে। তবে কোনো আইনই চূড়ান্ত নয়; বাস্তবতার নিরিখে এবং সময়ের প্রয়োজনে তা সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সাইবার আইনের অপপ্রয়োগে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।
একটি তথ্য যাচাইকারী (ফ্যাক্ট-চেক) প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে প্রেস সচিব জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। একই সময়ে বর্তমান সরকারকে ঘিরে ৪৫১টি এবং বিএনপিকে ঘিরে ১১৮টি অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুজব ও অপতথ্যের শিকার হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য বাড়লেও মূলধারার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা এখনো অটুট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ সামাজিক মাধ্যমে খবর দেখলেও সত্যতা নিশ্চিত করতে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের খবরের ওপরই নির্ভর করে।
সাংবাদিকদের দলীয় বা আদর্শিক বিশ্বাস প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, একজন সাংবাদিক সবসময় দেশ-বিদেশের খবরাখবর রাখেন এবং পড়াশোনা করেন, ফলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি তার সমর্থন বা মতামত থাকাটা অস্বাভাবিক বা অন্যায় নয়। তবে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পক্ষপাত যেন কোনোভাবেই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের নিজেদের স্বার্থেই পেশাগত ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন জানান, ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে চার শতাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। দীর্ঘ ও কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে ডিআরইউর গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি অনুসরণ করে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে মাত্র ৪০ জন যোগ্য রিপোর্টারকে নতুন সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। ডিআরইউ সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
এ সময় ডিআরইউর সহসভাপতি মেহেদী মাসুম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর ইকবালসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








